ইবি প্রতিনিধি ॥ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আলাদা দাবিতে চলমান আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের ৩ দফা দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের পাশাপাশি কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।
এতে বিভাগগুলোর চলমান পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেশনজটের শঙ্কা বাড়ছে।গতকাল শনিবার (৬ জুলাই) কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়ে ক্যাম্পাস ও শেখপাড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে। পরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘ ১ঘন্টা খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, প্রতিশ্রুতি সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তনের দাবিতে কর্মবিরতি চলমান রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
উভয়মুখী এ আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে জরুরি কাজে এসে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, আজ বিভিন্ন বিভাগের পূর্বনির্ধারিত মোট ১৪টি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। চলমান আন্দোলনে সকল পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। ১জুলাই থেকে এপর্যন্ত মোট ৩০টি পরীক্ষা স্থগিত হয়।
এছাড়াও আগামীকাল পূর্বনির্ধারিত ৮টি পরীক্ষা রয়েছে। প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবুল কালাম আজাদ বলেন, চলমান পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষা-কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পরীক্ষাগুলো নিতে পুনরায় রুটিন তৈরি করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেষ্টায় সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।
