মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ দোলপূর্ণিমা তিথিতে প্রতিবছর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেউড়িয়ায় আখড়াবাড়ীতে তিন দিনব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয় ফকির লালন শাহের স্মরণোৎসব। সাধু-গুরু, লালনভক্তদের সরব উপস্থিতি, গান ও গ্রামীণ মেলায় জমজমাট হয়ে ওঠে আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণ। এবার রমজানের কারণে আজ সোমবার দুপুর থেকে এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব। থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। কেবল আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই কাল মঙ্গলবার শেষ হবে আয়োজন।
সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে। আজ দুপুরে উৎসবের উদ্বোধন করবেন লেখক-চিন্তক ফরহাদ মজহার। উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচকও তিনি। গতকাল রোববার সকালে ছেউরিয়ার আখড়াবাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন। এ সময় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতারসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি এই স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে।
এদিকে উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল ফকিররা। খণ্ড খণ্ড ভাবে ভাগ হয়ে আসনে বসছেন তারা। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাউল – ভক্তদের উপস্থিতি বেশখানেকটা কম। সরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। ফরিদপুর থেকে উৎসবে আসা প্রীতম ফকির বলেন, দোল পূর্ণিমাতিথির জন্য প্রতিবছরের ন্যায় সাঁইজির দর্শনের আসায় এসেছি। ভক্তরা অপেক্ষায় থাকে কখন এই দিন আসে। প্রতিবার দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসত। তবে রমজানের কারনে এবার ভক্তবৃন্দ কম।
আমরা এখানে আসি শুধু নিজেকে ফিরে পাওয়া জন্যে, জানার জন্য। সাঁইজি সেই রাস্তা দেখায় দিয়ে গেছে। সেই পথ দিয়ে হাঁটলেই একদিন রাস্তা পাওয়া যাবে। কথা গুলো বলছিলেন মামুন সাধু। স্থানীয় ফকির হৃদয় শাহ বলেন, আত্মশুদ্ধি লাভের জন্য এবং ভালোবাসার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তবৃন্দরা আগত হচ্ছেন। তাদের বসার স্থান দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সকলের সঙ্গে দেখা, সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় চলছে সকলের। আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, সোমবার সন্ধায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এর পর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে। তার ভাষ্য, পবিত্র মাহে রমজানের কারনে এবার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি কম হতে পারে। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা
নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ সকল প্রকারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মাহে রমজানের কারণে উৎসব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দুপুরে আলোচনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে। আর সাধুসঙ্গের সকল কাজ সাধু – ভক্তরায় করবেন। প্রশাসন শুধু তদারককারী করবেন। সকলের সহযোগীতায় সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে আয়োজন।
