কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আগামীর ভোরটা হবে নতুন ভোর ঃ মেজর জেনারেল মাহবুবুর

নিজ সংবাদ ॥ ‘আমরা ভুল করেছি, ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের শেষ সময়ে কুষ্টিয়ায় একটা অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজন মারা গেছেন। এটা আশা করেনি। সবমিলিয়ে একটা ক্রান্তিকাল পার করছি। এটা থেকে বের হতে সেনাবাহিনী একা পারবে না। আপনাদের সহযোগিতা দরকার।’ গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কুষ্টিয়ায় এক মতবিনিময় সভাতে যশোর সেনানিবাসের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন,‘এখন ভেঙে পড়ার সময় না, কাধে কাধ মিলিয়ে সবাই কাজ করে যাবো। আগামির ভোরটা হবে নতুন ভোর।’ বিকেলে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিশেষ সভাতে মাহবুবুর রশীদ উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

এ সময় সেখানে জেলা প্রশাসক মো. এহেতেশাম রেজা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দীন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ সুজা উদ্দীন, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার জামিল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক তৌকির আহমেদ, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর, প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান, কুষ্টিয়া টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আনিসুজ্জামান ডাবলু, যমুনা টিভির কুষ্টিয়া প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবু। সভায়  জেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন, কোষাধ্যক্ষ এম লিটনউজ-জামান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দেড়ঘন্টাব্যাপী সভা বিকেল সাড়ে চারটায় শেষ হয়। সেখানে জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার জামিল বলেন, ছাত্রদের এই অর্জন যাতে কোনভাবেই কোন রাজনৈতিক দলের কাছে চুরি হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।

জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার বলেন, পুলিশকে যতদ্রুত সম্ভব অ্যাক্টিভ হতে হবে। বিভিন্ন গ্রামে হামলা ভাঙচুর ও আগুন দেবার ঘটনা ঘটছে জানিয়ে  বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়ার সমন্বয়ক তৌকির আহমেদ বলেন, এগুলো প্রতিরোধে এই মূহুর্ত থেকে সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করতে হবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন জায়গাতে হাট-ঘাট, জমি দখলের খবর শোনা যাচ্ছে। লুটতরাজ হচ্ছে। এতে যদি আমাকেও সম্পৃক্ত থাকতে প্রমাণ পাওয়া যায় তবে আমার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেন। যাকে পাবেন তাকে ধরে নিয়ে আসেন।’

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সুজা উদ্দীন বলেন, যারা কুষ্টিয়ায় শহীদ হয়েছেন তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে কুষ্টিয়াকে সুন্দর করে সাজাতে কাজ করা হবে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন,‘জেলার পুলিশ সদস্যরা এখনও ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তাদের স্বাভাবিক হতে একটু সময় লাগবে। তাদের কাউন্সিলিং করছি। বিগত কয়েকদিনের ঘটনার জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। 

জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা বলেন, আমিও সবার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। সাংবাদিকসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তির ছোট ছোট বক্তব্য শোনার পর সমাপনীতে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ বলেন, ‘কুষ্টিয়া শান্তির জেলা ও সাংস্কৃতির রাজধানী। একটু পরে সরকার গঠনের পর আশা করছি এখানে পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে। নতুন করে শুরু করবো। আপনারা সবাই সহযোগিতা করবেন।’

 

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর