বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। এলাকাবাসীর দাবি, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমতলা এলাকার বাসিন্দা মাজহারুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ বাড়ির পাশাপাশি কুষ্টিয়া বটতৈল বাইপাস সড়ক সংলগ্ন তার ভাইয়ের পরিচালিত ‘বিশ্বাস গ্যারেজ’ এলাকাকেও মাদক লেনদেনের একটি গোপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কথিত মাদক লেনদেনের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা যুবসমাজের একটি অংশকে নেশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এতে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অপরাধপ্রবণতাও বাড়ছে। চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক অশান্তি এবং কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বহুদিন ধরেই এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যে আলোচনা হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ তাদের চোখে পড়েনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এলাকার তরুণরা ধীরে ধীরে নেশার দিকে চলে যাচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।” এলাকাবাসীর দাবি, ভাইরাল ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে শুধু আলোচনা-সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা বলছেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের উচিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন মাতুব্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
