পাটবীজ উৎপাদন জোনে তথ্য গোপনের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

পাটবীজ উৎপাদন জোনে তথ্য গোপনের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬

আবেদন গ্রহণ করেও অস্বীকার!

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তথ্য অধিকার আইনের আওতায় দাখিল করা আবেদন গ্রহণের পরও তা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার এবং নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও তথ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার পাটবীজ উৎপাদন জোন (বিএডিসি)-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর আওতায় পাটবীজ উৎপাদন জোন, বিএডিসি, কুষ্টিয়ার কাছে এক নাগরিক একটি তথ্য আবেদন দাখিল করেন।

আবেদনে গত এক বছরে কৃষক পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা পাটবীজের পরিমাণ, সংগ্রহকৃত বীজের জাতভিত্তিক তথ্য, সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তালিকা এবং নিম্নমানের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতার কারণে ফেরত নেওয়া পাটবীজ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আবেদনটি সরাসরি দপ্তরে জমা দিতে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে আবেদনকারী ডাক বিভাগের মাধ্যমে আবেদন পাঠান। কিন্তু পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা এমন কোনো আবেদন পাননি।

এ ঘটনায় আবেদনকারী বিষয়টি নিশ্চিত হতে কুষ্টিয়া প্রধান ডাকঘরের শরণাপন্ন হন। ডাক বিভাগের তদন্তে জানা যায়, গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাটবীজ উৎপাদন জোনের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী রিপনের স্বাক্ষরের মাধ্যমে আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ডাক বিভাগ আবেদন গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ বিলি রশিদের সত্যায়িত কপিও সরবরাহ করে। আবেদনকারীর অভিযোগ, আবেদন গ্রহণের পরও তা অস্বীকার করা তথ্য প্রাপ্তির সাংবিধানিক ও আইনি অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল। শুধু তাই নয়, তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখনো কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি কিংবা তথ্য দিতে অপারগতার বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়নি।

বরং নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তার। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি দপ্তর তথ্যের আবেদন পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করা অথবা তথ্য প্রদান সম্ভব না হলে যথাযথ কারণ লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে আইনটির এ বিধান উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পাটবীজ উৎপাদন জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) মনিরা খাতুনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির নানা অনিয়ম ও সম্ভাব্য দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসার আশঙ্কা থেকেই তথ্য দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য মেলেনি। সুশাসন ও তথ্য অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।

কোনো দপ্তর আবেদন গ্রহণের পর তা অস্বীকার করলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে তথ্য না দিলে তা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রাপ্তির পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীসহ সচেতন মহল।