দৌলতপুরে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দৌলতপুরে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৬, ২০২৬

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও মানহীন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় ফাতেমা খাতুন (১৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ডাংগের বাজারে অবস্থিত কথিত “আল মদিনা ক্লিনিক” এ ওই প্রসূতির মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। নিহত ফাতেমা খাতুন উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মধুগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ হোসেনের স্ত্রী।

পরিবারের অভিযোগ, সকালে ফাতেমাকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সারাদিন তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক এসে পরিবারের সদস্যদের জানান, ফাতেমা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে পরিবারের দাবি, অপারেশনের আগে ওটিতে একজন সার্জন ছাড়া আর কোনো যোগ্য চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে থাকা কয়েকজন নারীরও কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি ছিল না বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। তাদের ভাষ্য, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই ফাতেমার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ক্লিনিকে এর আগেও একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও প্রশাসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্লিনিকটির পরিবেশ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিম্নমানের। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও দক্ষ জনবল ছাড়াই সেখানে নিয়মিত অপারেশন পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন মানহীন ও লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। বারবার প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এর দায় কেউ নিচ্ছে না।

জানা গেছে, অপারেশনটি পরিচালনা করেন এমবিবিএস চিকিৎসক টি এ কামালি। এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এছাড়া তার বাড়ি পাশের ভেড়ামারা উপজেলায় হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগও সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, আল মদিনা ক্লিনিকের মালিক জনি হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, অপারেশন স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। হঠাৎ রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়, এরপরই তার মৃত্যু ঘটে। তবে অপারেশনের সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন কি না, এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব তিনি দেননি। ক্লিনিকের লাইসেন্স সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনটি কেটে বন্ধ করে রাখেন।