তাঁর সংগ্রামী চেতনাকে তরুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: কুতুব উদ্দিন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

তাঁর সংগ্রামী চেতনাকে তরুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে: কুতুব উদ্দিন 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গানে গানে শেষ হলো নজরুল জয়ন্তী উৎসব। কুষ্টিয়ায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত, দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) সমাপনী দিনে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।

কুষ্টিয়া কর অঞ্চল কর কমিশনার মহিদুল ইসলাম, কুষ্টিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন প্রমূখ। এতে সভাপতিত্ব করেন, জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদ সমন্বয় পরিষদের আহবায়ক সালাউদ্দিন আহম্মদ। এছাড়া জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী, সাহিত্যিক, আবৃত্তিকার ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা অংশ নেন। আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, নজরুল ছিলেন প্রেম, দ্রোহ, সাম্য ও মানবতার কবি। তাঁর সাহিত্যকর্মে অসাম্প্রদায়িকতা, মানবমুক্তি ও সাম্যের যে চেতনা ফুটে উঠেছে, তা বর্তমান সময়েও সমান প্রাসঙ্গিক। এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুলকে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কতটা মূল্যায়ন করতে পেরেছি এটা প্রশ্ন থেকেই যায়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব কবি তাকে যেমন স্মরণ করা হয়, তেমনিভাবে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলকে জেলায় জেলায় তুলে ধরা হয় না। আমরা নজরুলকে ধারন করি, জাতীয় কবি বলি, তার আদর্শকেও ধারন করি। এ ব্যাপারে উদাসীনতা আমাদের কাটিয়ে উঠা উচিৎ। উনি প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, ইসলামের কবি, হিন্দুর কবি, শ্যামা সংগীত, গজল গেয়েছেন, কি নেই তার ভান্ডারে? সে সময় যে সমাজ বাস্তবতা ছিলো।

সেখানে ধর্মীয়, সামাজিক বৈষম্য ছিলো, তার বিরুদ্ধে উনি প্রতিবাদি কন্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। বহু কবির জন্ম হয় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়। দরবারের কবি যাদেরকে বলা হয়। নজরুল নিজে থেকেই আল্লাহর রহমত প্রাপ্ত হয়ে উঠে এসেছিলেন। শত বাধা বিঘ্ন, উনি যা কিছু বলেছেন শ্রমিকদের জন্য কবিতা, প্রবন্ধ লিখেছেন। উনি নিজে শ্রমিক ছিলেন, রুটির দোকানে কাজ করেছেন। উনি যুদ্ধ করেছেন। সৈনিক ছিলেন, তার জন্য দামামা সৃষ্টি করেছেন উনি। জেল খাটা কবি এমন পাবেন না, বৃটিশ বিনিয়াদির বিরুদ্ধে, আন্দোলন করে, তার বিরোধীতা করে, কোন কবি সাহিত্যিক জেলে যায় এমন নজিরবিহীন কবি পাওয়া যাবে খুব কম।

কেউই তাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি। একেকজন একেক দৃষ্টিতে দেখছেন। যখন সংগীত পরিবেশন করেছেন একটা সমাজ খুশি আরেকটা সমাজ অখুশি। আবার ইসলামিক গানের ভান্ডারকে পূর্ণ করেছেন, তখন আরেকটি সমাজ সমালোচনা করেছে এ আবার কি ধরনের কবি। কাল গেয়েছে একটা, আজ গাইছে আরেকটা, এই হচ্ছে নজরুল। বৈচিত্র্যতার পূর্ণ জীবন যাপন। তিনি আরো বলেন, উনি অসুস্থ হলেন, তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। উনার দাফন নিয়ে অনেক চক্রান্ত ছিলো। আমাদের দেশে তখন রাষ্ট্রপতি ছিলেন জিয়াউর রহমান।

দ্রুত, উনি আমাদের কবি যেহেতু সেই হিসেবে দাফনটা আমরা আমাদের দেশের মাটিতেই করেছি। এইরকম একটা মহা সম্পদ আমাদের ভান্ডারে ছিলো এবং আছে। আমরা সেটাকে ধারন করি। নজরুলের প্রত্যকেটা ছন্দে, কবিতায়, রাগ, অনুরাগ, ভালোবাসা, বিরোহ পাবেন। আমি চিরদিনের জন্য দুরে চলে যাবো’ তবু আমারে দিবোনা ভুলিতে, প্রত্যেকটা ছন্দে পাবেন, অভিমান, ভালোবাসার কথা। ইসলামের গান নজরুলকে ছাড়া কল্পনা করা যায় না, আর এই ভান্ডার বাংলাদেশে একমাত্র নজরুলই পূর্ণ করেছেন। তাই তরুণ প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্য, দর্শন ও সংগ্রামী চেতনাকে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।

এছাড়া প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, নজরুল তাঁর লেখনীর মাধ্যমে মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রেরণা দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা আজও মানুষকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি আরো বলেন, নজরুল ছিলেন অন্যায়, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদের প্রতীক। তিনি তাঁর কলমকে ব্যবহার করেছিলেন মানুষের মুক্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং স্বাধীন চিন্তার পক্ষে। তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্য আমাদের শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে। এদিকে আয়োজকরা জানান, নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।