নিজ সংবাদ ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। গতকাল রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের দিশা টাওয়ারে মিলনায়তনে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান আবু বকর সিদ্দিকের সঞ্চালনায় আনুষ্ঠানিক ভাবে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। পরে ইশতেহার ঘোষণা করেন আসনটির ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এতে শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধিজনেরা অংশ গ্রহণ করেন। ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিখাতের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মাদক ও সন্ত্রাস দমন এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। এই ইশতেহারে কুষ্টিয়া সদর আসনের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে, কর্মসংস্থান ও যুব উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী শাসন ও পরিবেশ রক্ষা, কুষ্টিয়াকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলা, কুষ্টিয়াকে সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে বিকশিত করা, ক্রীড়ার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। পরে প্রার্থী কুষ্টিয়া সদরবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
এসময় সাংবাদিক ও সুধিজনদের প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, কুষ্টিয়ার এক ইঞ্চি মাটিও কেউ দখল করতে পারবে না। চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন করা হবে। সন্ত্রাস চাঁদাবাজির ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। সুগার মিল চালু করা হবে। মোহিনী মিল চালুর ব্যাপারে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিবো। জনগনের কল্যানে কাজ করতে চাই। রেল ওয়ে স্থানান্তর করে প্রতিস্থাপন করার পাশাপাশি দেশের প্রতি জগতি রেল স্টেশন চালু করা হবে। কোন অন্যায় বা চাঁদাবাজি হবে না।
সব সিন্ডিকেটের বিপক্ষে আমরা। ধানের শীষ বিজয়ী হলে এক মাসের মধ্যে কুষ্টিয়াকে ধুলোবালি মুক্ত করা হবে। আমরা প্রতিহিংস্বার রাজনীতি পরিহার করে সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। কেউ অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। তবে আমাদের দ্বারা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হবে না। এদিকে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এর নির্বাচনী ইশতেহার থেকে জানা যায়, তরুণ ও বেকার যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ, স্টার্টআপ সিড ফান্ড এবং জামানত ছাড়া সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা। শিক্ষিত বেকার যুবকদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য চায়নিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আরবী ও ইংরেজি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করে বিদোশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো ও ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণসহ শিক্ষার মান উন্নয়নে এআই ভিত্তিক কানেক্টেড স্কুল ও লার্নিং সিস্টেম চালু করা। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী দক্ষ জনবল তৈরির জন্য কুষ্টিয়াতে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, রেল যোগাযোগ, অবকাঠামো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া। কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজকে জাতীয়করণ করা। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও কুষ্টিয়া সরকারি মহিলা কলেজে যুগোপযোগী নতুন নতুন বিষয়ে বিভাগ খোলা।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর মান উন্নয়ন এবং জরুরি সার্ভিসের জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা। কুষ্টিয়ার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালসমূহের মধ্যে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (চচচ) এর মাধ্যমে জনগণের সার্বাচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণ। কুষ্টিয়া পৌর অঞ্চলের জলবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও খাল পুনঃখনন। কুষ্টিয়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনকে কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণে স্থানান্তরিত করে কুষ্টিয়া ইস্ট ও কুষ্টিয়া ওয়েস্ট দুটি স্টেশন স্থাপনসহ পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। গড়াই নদীতে ঘোড়াঘাটে নতুন ব্রিজ নির্মাণ ত্বরান্বিত করা।
গড়াই নদীর দুই ধার দিয়ে ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করে হরিপুর ব্রিজ, প্রস্তাবিত ঘোড়াঘাট ব্রিজ ও মাসুদ রুমি সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত করে কুষ্টিয়া শহরকে গড়াই নদীর উত্তর পাশে সম্প্রসারিত করা এবং শহরবাসীর জন্য বিনোদন স্পটে রূপান্তরিত করা। কুষ্টিয়া শহর থেকে শিলাইদহ রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং কুষ্টিয়ার সাথে পাবনা জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে শিলাইদহ সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে টুইল সিটি নির্মাণের উদ্দ্যোগ নেওয়া, যেন কুষ্টিয়া জেলা এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও পর্যটনের কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি, কুষ্টিয়া-মোহরপুর, কুষ্টিয়া-চুয়াডাঙ্গা সড়ককে চার লোন রূপান্তরিত করা।
গড়াই নদী খননের মাধ্যমে নৌপথে মংলা বন্দরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা। কালি নদী খননের মাধ্যমে মৃত নদীকে পুনর্জাগরণ কার অত্র এলাকায় কৃষি ও মৎস্য বিপ্লবের সুযোগ সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে চলমান ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রিন কুষ্টিয়া (কক-এক) কার্যক্রমকে ব্যাপকতার মাধ্যমে শহর ও গ্রামে সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়া। শিল্প বর্জা ও মিউনিসিপ্যাল বাজার সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য রিসাইকেল স্ল্যান্ট স্থাদন করা। জিকে সেচ প্রকল্পকে সংস্কার করে অত্র এলাকার কৃষির স্বর্গরাজ্যকে পুনরুদ্ধার করা। কুষ্টিয়াতে একটি নৌবন্দর স্থাপন করা। কুষ্টিয়ার ভৌগোলিক অবস্থা, ত্রিমাত্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরবচ্ছির বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং স্কুল ও নৌবন্দরের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়াকে শিল্পনগরী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
দেশের অন্যতম প্রধান চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর অঞ্চলকে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এ অঞ্চলকে কৃষি শিল্পাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা। কুষ্টিয়ার ভাদালিয়ায় আটামোবাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে আধুনিকায়ন ও প্রসারের ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করা। শক্তিশালী সরকারি খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার স্বার্থে এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রাতসমূহে খাদ্যশস্য বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য কুষ্টিয়াতে একটি বৃহত্তর সিএসডি খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা। বন্ধ মোহিনী মিল ও সুগার মিলের বিষয়ে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া। কুষ্টিয়াকে অফিসিয়ালি সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা। সংস্কৃতি বিকশিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনসহ নিয়মিত সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গকে পৃষ্ঠপোষকতা করা। কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। পৌরসভার ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন ভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি ও উন্নয়নের ব্যবস্থা করা। কুষ্টিয়াতে বিভিন্ন ধরনের আন্তজেলা টুর্নামেন্টের আয়োজন করা।ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন টিম ও খেলোয়াড়দের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা করা। সারা বছর বিভিন্ন ধরনের খেলা চলমান রাখার ব্যবস্থা করা। কুষ্টিয়াতে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা। ইশতেহার ঘোষনার পর উপস্থিত শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধিজনদের প্রশ্নোত্তর দেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। উপস্থিত সবাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের ঘোষিত ইশতেহারকে কুষ্টিয়ার উন্নয়নে যুগান্তকারী ও সময়োপযোগী বলে আখ্যা দেন।
