কুষ্টিয়ায় হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ১২ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ১২

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১২, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে ক্রমেই উদ্বেগজনক করে তুলছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তির চাপ। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেফা (১১) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।

একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত শিশু শেফা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়া এলাকার আক্তার হোসেনের মেয়ে। গত ১০ মে বিকেল ৪টার দিকে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৭৫ জন রোগী। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩০ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৩ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত কুষ্টিয়া সদর উপজেলায়। উপজেলা ভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া সদর এলাকায় ৮ জন এবং খোকসা উপজেলায় ১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

তথ্যমতে, আক্রান্ত ১ হাজার ২১৩ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ জনের শরীরে। যদিও উপসর্গ ও সংক্রমণের বিস্তার বিবেচনায় সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রোগীর অতিরিক্ত চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোছা. ফাতেমা খাতুন জানান, আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে অনেক শিশুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হচ্ছে, ফলে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

শিশুদের মধ্যে জ্বর, চোখ লাল হওয়া কিংবা শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা ও টিকাদান নিশ্চিত করা না গেলে হাম থেকে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ জটিলতা তৈরি হতে পারে, যা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এদিকে স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় এখনো নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতার অভাব ও প্রাথমিক উপসর্গকে অবহেলা করায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন, হাসপাতাল তদারকি বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।