বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে বাঁশ খুঁটি পুঁতে দখলদারিত্বসহ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত শুক্রবার মেডিকেল কলেজ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার সাথে সাথে ঐ রাতেই কলেজের সামনের কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের উভয় পাশের খাল ও নয়নজলির অংশবিশেষ বাঁশ-খুঁটি পুঁতে ঘিরে ফেলে দখলদাররা। এতে সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হয় বিএনপির লোকেরা দখল করছে। গতকাল শনিবার (৬ জুন) বিষয়টি জানতে পেরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অবহিত করেন।
প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার এক বার্তায় জানান, আর্মি ক্যাম্প উঠে যাওয়ার পর কে বা কাহারা কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামনে বাঁশ খুঁটি পুঁতে অবৈধ দখলদারিত্বের চেষ্টা করে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি এবং প্রশাসনের সময়োপযোগী পদক্ষেপে গতকাল দুপুরে উক্ত জায়গা দখলমুক্ত করা হয়েছে। হিসাব পরিস্কার, কোন চাঁদাবাজ দখলবাজের জায়গা কুষ্টিয়াতে হবে না। এদিকে সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান সকালেই কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন ঐসব অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিতে।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ঐসব ঘিরে রাখা বাঁশ খুঁটি উচ্ছেদ করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের বুলডোজার আসে কলেজ গেটের উভয় পাশে ও সামনের দিকে সড়ক বিভাগের জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেবার জন্য। এখানে নয়নজলীকে মাটি ভরাট করে গড়ে তোলা হয় বেশকিছু চা কফি ও ফার্স্টফুডের দোকান। গেটের সামনের দিকের ওষুধের দোকানগুলোর সমুখে সড়ক বিভাগের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠে টিনের শেড। এসব অবৈধ স্থাপনা থেকে পণ্যসামগ্রী দরকারি জিনিসপত্র দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য লাউড স্পিকারে ঘোষণা দেয়া হয়।
ঘোষণা শুনে অনেক ব্যবসায়ী তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিলকদ হোসেনের নির্দেশে সড়ক বিভাগের বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ পরিচালনা করা হয়। তবে অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালনা কালে তেমন কোন বাধার মুখে পড়তে হয়নি কর্তৃপক্ষকে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেককেই বলতে শোনা গেছে- পুলিশ তো এখানে সবসময় বসে থাকবে না, তারা আগামীকালই নতুন করে শেড নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করবে। এসময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম বলেন, তাদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
