বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, ‘আসমা ম্যাম সরাসরি আমার শিক্ষক না হলেও প্রাণপ্রিয়, ইবির শিক্ষক হিসেবে তাকেও আমার শিক্ষক মনে করি। ওনার হত্যার খবর শোনার পরে আমরা শোকাহত ছিলাম। আমরা নিস্তব্ধ হয়ে গেছি জীবন থেকে। সরকারের কাছে আহ্বান জানাব, আগামীতে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা লাগবে। নয়তো, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আবার হবে। আজ বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, কালকে সরকারি কলেজে হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গলা কেটে হত্যার শিকার হওয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া’র জানাজায় এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, এমন হত্যাকাণ্ড বন্ধ বন্ধ করার জন্যে কোরআন-হাদিসের যে নিয়ম-নীতি আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলেও রাষ্ট্রের যে নিয়ম-নীতি আছে তা ১০০ ভাগ কার্যকর করুন। অপরাধীদের ১০০ ভাগ শাস্তির আওতায় নিয়ে আসুন। দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি কার্যকর না করলে এমন ঘটনা আমাদের চোখে আবার দেখা লাগবে।
শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাংলাদেশ থেকে চিরতরে বন্ধ হবে। এদিন বাদ জোহর কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে, জেলার কেন্দ্রীয় গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, এদিন আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে নিহত আসমার ময়নাতদন্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, গতকাল (৫ মার্চ) আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে আসমা সাদিয়া রুনার নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে যাওয়া আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসাপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।
