ফ্রিতে আনা ইটে কুষ্টিয়া ডিসি কার্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ফ্রিতে আনা ইটে কুষ্টিয়া ডিসি কার্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ৪, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পুকুরে প্রাচীর নির্মাণ হচ্ছে ভাটা মালিক সমিতির কাছ থেকে নেওয়া বিনামূল্যের ইটে। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে পরস্পরবিরোধী কথা বলেন সমিতির নেতা ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা। একে ওপরের ওপর দায় দিয়ে পেতে চাচ্ছেন দায়মুক্তি। গুরুতর এই অভিযোগের বিষয়ে বেশকিছু প্রমাণপত্রও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি ইটভাটা থেকে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ইট। ভাউচারে জেলা প্রশাসনের নাজির আহসানের ফোন নাম্বার দেওয়া থাকলেও ইটের মূল্য লেখা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইট পৌছে দিতে আসা শ্রমিকরা জানান, ভাটা মালিক সমিতির কাছ থেকে ১৬ হাজার ইট ফ্রিতে নেওয়া হয়েছে। এজন্য কোনো দাম লেখা নাই। গোপন ক্যামেরায় এক শ্রমিক জানান, ভেড়ামারার এমবিএফ ভাটা থেকে এসব ইট আমরা এনেছি। এই ট্রলি দিয়ে ১৪ হাজার ইট ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে, আর দুই হাজার আসবে। ইট ফ্রি, আমরা শুধু ২ হাজার টাকা করে ভাড়া পাচ্ছি। ভাউচারে ফোন নাম্বার দেওয়া উনি ভাড়া দিচ্ছেন। ইট আনার সময় পুলিশ ট্রলি আটকে ছিল। নাজির সাহেব ফোন দিয়েই ছাড়িয়েছেন।

ফ্রিতে ইট আনার অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রথমে নাজির বলেন, এডিসি জেনারেল জানেন। এডিসি বলেন, ত্রাণের লোকজন জানেন। পরে জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিজিবুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।জানার কথাও না। অথচ কয়েক হাজার ইটের স্তুপ পড়ে আছে জেলা প্রশাসকের ওই পুকুর পাড়ে। পরে ফোন দেওয়া হয় এমবিএফ অটো ব্রিকস নামে ওই ভাটার মালিক জিয়াউর রহমান জিয়াকে। নিজের ভাটার ভাউচারের কথা অস্বীকার করে এই ভাটা মালিক বলেন, আমার কাছ থেকে কোনো ইট নেওয়া হয়নি। নুরুজ্জামানের ভাটা থেকে ইট নেওয়া হয়েছে।

একপর্যায়ে জিয়াউর রহমান বলতে চান, এমবিএফ তার ভাটা নয়। পরে অধিকতর তদন্তে তিনি বলেন, ভাটার মালিক আমার স্ত্রী। আমি অনেক কিছুই জানি না। তদন্তের একপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয় ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলীকে। তিনি বলেন, ইট তো ফ্রিতে নেয়নি। এডিসি জেনারেল সাড়ে ৮ হাজার টাকা করে হাজার হিসেবে দাম মিটিয়ে ভেড়ামারা থেকে ইট নিয়েছেন। এডিসি জেনারেলকে ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম ইট নেওয়া ও পেমেন্টের বিষয়ে। তিনি বলেছিলেন ১০ হাজার ইট পূর্ণ হলে দাম দেওয়া হবে। পরে টাকা দিয়েছে কিনা জানি না।

জিয়াউর রহমান ইট দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও শাহীন আলী জানান, ইটের বিষয়ে জিয়া কেন জানবে না। তার অবশ্যই জানার কথা। পরে আবারও যোগাযোগ করা হয় এডিসি জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। এবার তিনি দাবি করেন, ইটভাটার মালিক সমিতির নেতা শাহীন আলী নামে কাউকে আমি চিনি না। শাহীন আলীর নামই আজ শুনলাম। এসব মিথ্যা কথা, ভুল ধারণা। ইট আনার এই সময়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ছিলেন সদ্য বিদায়ী ইকবাল হোসেন। অনুসন্ধানের জন্য তাকে কয়েকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি।