বিশেষ প্রতিনিধি ॥ টাকা দিলেই কোর্ট হাজতে আসামির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ এমনই এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নিলে কোর্ট পুলিশ হাজতে থাকা আসামির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দিচ্ছেন। এমন একটি ঘটনার সাক্ষ্য মিলেছে কুষ্টিয়া কোর্ট প্রাঙ্গণে। সম্প্রতি কুষ্টিয়া কারাগার থেকে এক আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে রাখা হয় কোর্ট হাজতে। ওই আসামির স্ত্রী নুপুর খাতুন (বাড়ি: ধরমদাহ, দৌলতপুর) স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে কোর্টে আসেন। তার সঙ্গে ছিলেন শাশুড়ি অর্থাৎ আসামির মা।
নুপুর খাতুনের অভিযোগ, ২০০ টাকার বিনিময়ে কোর্ট পুলিশ তাকে স্বামীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেন। তিনি বলেন, টাকা নেই কিনা নেই, সেটা জানি না। তবে আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছে, তারপর আমাকে দেখা করতে দিয়েছে। কোন পুলিশ সদস্য টাকা নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে চিহ্নিত করতে পারেননি। তিনি বলেন, তিনি এখানেই ছিলেন, এখন আর তাকে দেখছি না। নুপুর আরও জানান, তার স্বামীর বিরুদ্ধে ছাগল সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল। পরে তার স্বামীকে মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে আসামির মা অভিযোগ করেন, পুলিশের মতো পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাদের ভেতরে নিয়ে যান। তিনি বলেন, এক ছেলে আমাদের ভিতরে নিয়ে গেল। তার পুলিশের মতোই পোশাক ছিল। আমরা তিনজন গিয়েছিলাম। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শুধু সাক্ষাৎ নয় টাকার বিনিময়ে হাজতে থাকা আসামিদের জন্য খাবার, কাপড় ও অন্যান্য সামগ্রীও ভেতরে পৌঁছে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থ দিনশেষে কোর্ট পুলিশের সদস্যদের মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়। অনুসন্ধানে সাখাওয়াত নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাকে টাকা নিতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এখানে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয় না।
আমি কোনো টাকা নেইনি। তবে প্রতিবেদকের কাছে সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র রয়েছে। ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলার সময় এক পুলিশ সদস্য এসে সাংবাদিকের ফোন চেপে ধরেন এবং তা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কোর্ট ইন্সপেক্টর জহুরুল ইসলাম বলেন, এখানে আমার কোনো পুলিশ সদস্যের টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে কোর্ট হাজতে সাক্ষাতের প্রক্রিয়া কী? সেখানে কি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে? আর যদি থাকে, তবে কীভাবে টাকার বিনিময়ে তা ভঙ্গ হচ্ছে? স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগ সত্য হলে এটি বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য মারাত্মক হুমকি। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
