কুমারখালীতে সাদা কদমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে কালো সোনা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে সাদা কদমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে কালো সোনা 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬

মোশারফ হোসেন ॥  কুষ্টিয়া কুমারখালীতে সবুজে সমারোহ পেঁয়াজ ক্ষেতের রূপ পাল্টে এখন শত শত একর পেঁয়াজের মাঠ সোনালী মাঠে পরিণত হয়েছে। সাদা ফুল ছেড়ে সবুজ সোনা এখন কালো সোনায় রূপান্তরিত হয়েছে। হাতছানি দিচ্ছে কোটি কোটি টাকায়। কুমারখালীতে প্রায় ২২০ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে পিঁয়াজের কদম ফুল যা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা বাণিজ্য হবে। বেড়েছে পেঁয়াজের বীজ চাষের আবাদ। চলতি মৌসুমে জগনাথপুর, চাপড়া, যদুবয়রা, শিলাইদহসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পেঁয়াজের বীজ চাষ করছেন কৃষকেরা। প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকা খরচে লাভ হচ্ছে প্রায় ৫ লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে এই বীজ চাষে ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। আর কৃষকদের অনুপ্রেরণা জোগাতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস কৃষি বিভাগের।

উৎপাদন ভালো হওয়ায় ও অধিকা লাভের আশায় পেঁয়াজের বীজ চাষে ঝুকছেন কুমারখালীর কৃষকেরা। সুপার কিং,লাল দীঘ্রি,হাইব্রিড, হিমাশকেল,সুখ সাগর নামে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করছেন তারা। মান ও আকার ভেদে প্রতি কেজি বীজের দাম দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন। উৎপাদন করা এ বীজকে কৃষকেরা তুলনা করছেন সোনার সঙ্গে।আর চাষিদের ফুলের ওপর হাত দিয়ে পরাগায়ণ কীভাবে করতে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। সার ,বীজ ও মজুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে পেয়াজ বীজ চাষে খরচ হচ্ছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আবহাওয়া ভালো থাকলে বিঘা প্রতি উৎপাদন হবে ৬ লাখ টাকা। পেঁয়াজের বীজ চাষ ঝুকিপূর্ণ জেনেও উপজেলার অনেক কৃষক এই চাষকে প্রাধান্য দিয়ে করছেন চাষাবাদ। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই চাষ করার কথা জানান তারা।

আবহাওয়া ভালো থাকায় চলতি বছরে প্রায় ৩০ মেট্রিক টোন বীজ উৎপাদন হবে যার বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা। এতে একদিক যেমন সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান অন্যদিকে লাভবান হবে এসব কৃষকেরা।  কৃষি উদ্যোক্তা আবু তালেব বলেন, ‘এবার ৩৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি। অগ্রহায়ণ মাসে জমিতে বীজ বপণ করেছিলাম। ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কদম চাষ করে অন্যান্য ফসল-এর তুলনায় অধীক লাভবান হওয়া যায় তাই আমার মতো অনেক কৃষক ভাই কদম চাষ করে থাকেন।’ আগে অনেকেই শুধুমাত্র নিজেদের জন্য করতেন তবে বর্তমানে অনেকে বাণিজ্যিক ভাবে কদম চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। কুমারখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাইসুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর কুমারখালী উপজেলার ৪ হাজার ৯শো ২৮ হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে পেঁয়াজের বীজ। কৃষিতে সম্পৃক্ততা বাড়লে বাড়বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তৈরী হবে কর্মসংস্থান। এমনটায় প্রত্যাশা এই অঞ্চলের কৃষকদের।