গড়াই নদীতে বালু উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

গড়াই নদীতে বালু উত্তোলনে অনিয়মের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

পূর্ণ টাকা পরিশোধ ছাড়াই কাজ শুরু-রাজস্ব ক্ষতির শঙ্কা

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার জুগিয়া এলাকার গোপিনাথপুর মৌজায় গড়াই নদী খনন প্রকল্পের আওতায় বালু উত্তোলন ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডারের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ ও কার্যাদেশ গ্রহণের পর কাজ শুরুর বিধান থাকলেও, তা অনুসরণ না করেই ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স বসির এন্টারপ্রাইজ বালু উত্তোলন শুরু করেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গড়াই নদী খনন প্রকল্পের অধীনে সংরক্ষিত প্রায় ১১ লাখ ঘনমিটার বালু বিক্রির জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে গোপিনাথপুর মৌজার বালুর জন্য ৬ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয় বসির এন্টারপ্রাইজ। শর্ত অনুযায়ী জামানত হিসেবে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা জমা দেওয়া হলেও, বাকি অর্থ পরিশোধের আগেই বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে দুই দফায় মোট ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ হয়েছে কি না এবং কার্যাদেশ বৈধভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় সীমিত কার্যক্রম দেখা গেলেও রাতে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে ব্যাপক হারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শত শত ড্রাম ট্রাকে বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় এ কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ঘটনাস্থলে একটি ড্রাম ট্রাকে বালু লোড করার সময় দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে চার থেকে পাঁচটি এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জরিমানার আদেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট জাকিরুল ইসলাম। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, বসির এন্টারপ্রাইজকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য ১০ দিনের সময় দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মোকলেছুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মোকলেছুর রহমান দাবি করেন, জুগিয়া এলাকার সড়কে চলাচলে সমস্যা হওয়ায় অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে পদ্মা নদীর পাশ দিয়ে জিকের গেস্ট হাউসের সামনে দিয়ে বিকল্প রাস্তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার ভাষ্য, বাণিজ্যিকভাবে বালু বিক্রির উদ্দেশ্যে উত্তোলন করা হয়নি; অল্প পরিমাণ বালু ট্রলিতে বিক্রি হয়েছে, তবে বড় আকারে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হয়নি। তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে জরিমানা ও জব্দের পদক্ষেপ নেন। এদিকে, এত বড় অঙ্কের টেন্ডার মূল্য পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক বসির উদ্দিনের আয়-উৎস সম্পর্কেও এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। পুরো ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক বা অসাধু সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।