কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী লরির সঙ্গে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ৫ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী লরির সঙ্গে সিএনজির ধাক্কায় নিহত ৫

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরতলীর বাইপাস সড়ক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গ্যাসবাহী লরির সঙ্গে সিএনজির ধাক্কায় অন্তত ৫জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই সিএনজির যাত্রী। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে বাইপাস সড়কের কুষ্টিয়া স্টোর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন-কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর এলাকার মৃত, সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২), আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই সিএনজি চালক জাকারিয়া (৪০), একই এলাকার আশরাফুল (৪৫) তার স্ত্রী শিরিনা (৩০)।

সিএনজি চালক জাকারিয়ার বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায়। পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, মাসখানেক আগে জামাই জাকারিয়ার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায় বেড়াতে যান তার দুই শাশুড়ি আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২)। এছাড়াও একই এলাকার আশরাফুল ও তার স্ত্রী শিরিনা খাতুন সিএনজিযোগে আজ বাড়ি ফেরার পথে শহর বাইপাস সড়কের কুষ্টিয়া স্টোর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা একটি গ্যাসবাহী লরির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই আমিনা কমলা ও জাকারিয়া নিহত হন, হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান আশরাফুল ও তার স্ত্রী শিরিনাও। এ ঘটনায় গ্যাসবাহী লরিটি জব্দ করা গেলেও পালিয়েছে চালক। নিহতদের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের (ওসি) আবু ওবায়েত এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গ্যাসবাহি লরিটি জব্দ করা গেলেও পালিয়েছে চালক। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে সিএনজি ও গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি চালকসহ নিহত ৫ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে পাশাপাশি কবরে। রোববার সকালে তিনজনের এবং শনিবার রাতে দু’জনের দাফন করা হয়। খাজানগর আদর্শপাড়া কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হওয়ায় পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।