খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন প্রামাণিকের বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা পরিবারের সবাইকে এক ঘরে বেঁধে রেখে সোনা-রুপার গহনা ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। শনিবার দিনগত রাত ১২টার পর উপজেলার জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামে এ স্বশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দল চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগী মামুন প্রামাণিক একজন ফিড ব্যবসায়ী, মুরগির খামারি ও কৃষক। পাশাপাশি তিনি খোকসা উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ফুলবাড়িয়া গ্রামের আশরাফ প্রামাণিকের ছেলে। মামুনের বাবা আশরাফ প্রামাণিক জানান, ডাকাত দলের সদস্য সংখ্যা ছিল ১৫ জনেরও বেশি। অনেকের মুখ কালো কাপড় ও মাফলারে ঢাকা থাকলেও আগ্নেয়াস্ত্রধারীদের মুখ খোলা ছিল। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর কয়েকবার ফোন দিলে অনেক দেরিতে পুলিশ বাড়িতে আসে। তিনি আরও জানান, রাতে খামার থেকে বাড়ি ফেরার কিছু সময় পর ১২টার দিকে একটি সেডের মুরগি অস্বাভাবিকভাবে ডাকতে থাকে। তখন মামুন আবার খামারে যান। সেখানে ডাকাতরা তার হাতের টর্চলাইট কেড়ে নেয় এবং পানি খাওয়ার কথা বলে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসে। এরপর তাকে দিয়ে বাড়ির নারী-পুরুষ সদস্যদের ডেকে তোলে এবং সবাইকে এক ঘরে আটকে রাখে। বৃদ্ধ আশরাফ প্রামাণিক ও মামুনকে বেঁধে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে সোনা-রুপার গহনা ও নগদ টাকা লুট করে।
পরে সবাইকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে বাড়ির পূর্ব পাশের মাঠ দিয়ে পাংশা উপজেলার দিকে পালিয়ে যায়। মামুন প্রামাণিক জানান, ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড়ির প্রতিটি ঘরের আলমারি, কাঠের বাক্স ও বিছানাপত্র তছনছ করে। তারা ৫টি সোনার চেইন, একজোড়া সোনার রুলি বালা, কানের দুল এবং তার মায়ের প্রায় ৮ ভরি রুপার গহনা লুট করে। যার আনুমানিক মূল্য ১৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ নিয়ে যায়। তিনি ডাকাতদের কাউকে চিনতে পারেননি। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তার সঙ্গে কারও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন। খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন ডাকাতির ঘটনা স্বীকার করে বলেন, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
