বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব,অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দলীয় নেতাকর্মীদের দখল-চাঁদাবাজিসহ অপকর্মের লাগাম টেনে ধরতে না পারা পাশাপাশি প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কূট-কৌশলের কাছে টিকতে না পারায় নিজ ঘাঁটি বলে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জয় তুলে নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল কুষ্টিয়া জেলা।
২০০৮ সালের আগে পর্যন্ত যতগুলো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সবগুলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই ধানের শীষের প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এর মধ্যে শুধু ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কুষ্টিয়ার চারটি আসনই আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ এ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিল। দীর্ঘদিনের বিএনপির ঘাঁটি এ জেলায় এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জেলার একমাত্র ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) সংসদীয় আসনে জয় পেয়েছেন রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। এর আগে পিতার মৃত্যু জনিত কারণে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা মরহুম আহসানুল হক পচা মোল্লাও এ আসনের তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি বিএনপি সরকারের ডাক তার ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রাজনৈতিক সচেতন অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতে হঠাৎ এমন ভরাডুবি বিএনপির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা বা অশনি সংকেত।
মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা সবকিছু মিলিয়েই ধানের শীষের এক সময়ের ঘাঁটি কুষ্টিয়া জেলায় এমন শোচনীয় ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন। সংকট উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দলীয় কোন্দল নিরসন, তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে যে কোন কমিটি গঠনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিতের সাথে সাথে বিতর্কিতদের পরিবর্তে কিèন ইমেজের ব্যক্তিদের নেতৃত্বে নিয়ে আসা জরুরি। সেই সাথে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ এবং সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি জনগণের সমস্যা সমাধানে নেতা-কর্মীদের দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার পরামর্শ তাদের।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরীকে। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই এ আসনের তিন বারের নির্বাচিত এমপি এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের কর্মী সমর্থকরা রাগিব রউফ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল এমনকি কাফনের কাপড় পরিধান করে তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখেও মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়ায় চরম হতাশ শহিদুল ইসলামের পক্ষের বিপুল ভোট ব্যাংক রাগিব রউফ চৌধুরীর হাতছাড়া হয়ে যায়।
কেন্দ্রের চাপে শহিদুল ইসলাম এবং তার ভাই উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম শেষ পর্যন্ত লোক দেখানো হলেও রাগিব রউফ চৌধুরীর পক্ষে মাঠে নামলেও তাদের ভোট ব্যাংক চলে যায় বিরোধী শিবিরে। এছাড়াও ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরবর্তী বিএনপি নেতা-কর্মীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি-দখলবাজিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে এখানকার মানুষ বিএনপির উপর আস্থা রাখতে পারেনি। আর এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে নির্বাচনের ফলাফল নিজেদের দখলে নিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল গফুর। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে থেকেই এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয় এবং কিèন ইমেজের মানুষ হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল গফুর।
সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ১৯৮২ সালে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য। ১৯৯০ সালের পর মিরপুর উপজেলার আমলা সদরপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ করে মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন আব্দুল গফুর। অন্যদিকে নির্বাচনে আওয়ামীলীগের যে ভোট ব্যাংক রয়েছে সেটিও দখলে নিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয় বিএনপি। বিএনপির দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন না হওয়া এবং আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে চলে যাওয়ায় এ আসনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী রাগিব রউফ চৌধুরীর ভরাডুবি আরো নিশ্চিত হয়।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম আলম বলেন, কুষ্টিয়ার তিনটি আসনে দলের ভরাডুবির পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে ভোটের মাঠে নামানো। বিএনপি’র ঘাড়ে বন্দুক রেখে গর্ত থেকে বের হয়ে তারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়েছে। আর ভোটের মাঠে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে অবস্থান নেতা-কর্মীসহ ভোটাররা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারকে প্রায় ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলোচিত ইসলামি বক্তা আমির হামজা। কুষ্টিয়া অঞ্চলের অন্তত ৫০ জন সাধারণ ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে এখানকার বিএনপি নেতা-কর্মীরা যখন হাট-ঘাট, বালু মহল দখল, চাঁদাবাজি-দখলবাজিতে ব্যতি ব্যস্ত তখন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা মন্দিরের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কিভাবে সাধারণ মানুষকে তাদের দিকে ভেড়ানো যায় নিরবে সেই প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের অনেকেই নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন করে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা ভোটার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মন জয় করার কাজে ব্যতি ব্যস্ত থেকেছেন। অন্যদিকে প্রায় এক দেড় বছর আগে থেকে জামায়াত তাদের দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী ঘোষণা করে সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনের মাঠে নামে। দলটির নেতা-কর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে অন্তত ৫-৬ বার করে এক একজন সাধারণ ভোটারের বাড়ি বাড়ি গেছেন। অন্যদিকে নির্বাচনী এলাকার অধিকাংশ ভোটারদের বাড়িতে একবারও পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শহরতলীর একটি গ্রাম বটতৈল। শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরের ওই গ্রামের একটি এলাকা শিশির মাঠ।
সেখানকার শরিফ, জহির ও সালামসহ কয়েকজন দাবি করেন, তাদের কাছে ভোট চাইতে কেউ আসেননি। বিএনপির দুয়েকজন নেতা এলাকায় আসলেও চায়ের দোকানে গল্প করে ফিরে গেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলের একটি বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ছিল সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহবার উদ্দিনের হাতে। ওই অংশের অনেকেই মনে করেন, সোহরাব উদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় এ আসনে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ওই অংশের দাবি সোহরাব উদ্দিনকে মনোনয়ন না দেওয়ায় চরম ক্ষুদ্ধ এবং হতাশ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের মাঠে অনেকটাই নিরব থেকেছেন, ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট প্রদান থেকে বিরত থেকেছেন।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক নিজেদের কাছে টানতেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। বিএনপির একটি পক্ষ আশা করেছিলেন, আওয়ামী লীগের ভোট তাদের ঝুঁলিতে পড়তে যাচ্ছে। তবে অনুসন্ধান বলছে, অনেকে বুকে ধানের শীষের ব্যাজ নিয়ে ঘুরেছেন, কিন্তু ভোট দিয়েছেন দাঁড়িপাল্লায়। এমন একটি এলাকা হলো কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বটতৈল গ্রাম। সেখানে মিলপাড়ার অনেক ভোটার এই প্রতিবেদককে জানান, তাদের নির্দেশ ছিল দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার। কিন্তু ব্যাজ রাখতে হবে বিএনপির। সূত্র জানায়, বটতৈল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ নেতা মোমিন মন্ডল, মোল্লাতেঘড়িয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হানিফ-আতার বিশ্বস্ত সাবেক পৌর কাউন্সিলর আশাসহ পলাতক অনেক নেতা-কর্মীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট করতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত তারাও দাঁড়িপাল্লায় সিল মেরেছেন।
সূত্র বলছে, দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক এমপি মাহবুব উল আলম হানিফ এবং তার নিকটাত্মীয় চাচাতো ভাই কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা নেপথ্যে থেকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) এবং কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত করতে কলকাঠি নেড়েছেন।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে। মনোনয়ন না পাওয়ায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ সাদী এবং কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর চরম বিরাগভাজন হন। উভয়ই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে রাজপথে তীব্র আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ, মশাল মিছিল এমনকি কাফনের কাপড় পরিধান করে তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন।
তীব্র আন্দোলনের মুখেও মনোনয়ন পরিবর্তন না হওয়ায় চরম হতাশ হন সাদী এবং আনসার প্রামানিকের অনুসারী দলটির বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা। ভোটের আগ পর্যন্ত মনোনয়ন বঞ্চিত ক্ষুদ্ধ নেতা এবং তাদের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের নির্বাচনের মাঠে শেষ পর্যন্ত নামাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ আসনে মেহেদী রুমীর পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়াও পরাজয়রে অন্যতম কারণ হিসেবে চরম মাত্রায় দলীয় সমন্বয়হীনতাও কাজ করেছে বলে নেতা-কর্মীদের অনেকেই মনে করছেন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রর্থীর বিরুদ্ধে কাজ করার সুস্পষ্ট অভিযোগে কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মো. জাকারিয়া আনসার মিলনকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী নানা অনাচারের কারণে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিস্কৃত যুবদল নেতা মো. জাকারিয়া আনসার মিলন কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিকের ছেলে।
জেলার একমাত্র কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন রেজা আহমেদ ওরফে বাচ্চু মোল্লা। তিনিও দলের অন্যান্যদের পরাজয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেই বড় করে দেখছেন। রেজা আহম্মেদ বলেন, কুষ্টিয়ায় পরাজয়ের একমাত্র কারণ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এর বাইরে আওয়ামী লীগের ভোট আশা করেও বিএনপির প্রার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন।
প্রায় একই সুরে সুর মিলিয়ে কথা বলছিলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের পরাজিত প্রার্থী ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি বলেন, আমাদের দলের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ছিল। প্রচারের সময় আমরা দলের বড় একটি অংশকে সাথে পাইনি। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটের মাধ্যমে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে থানা ও উপজেলা কমিটি গঠনের সময় দলের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব পড়েছে জাতীয় নির্বাচনে।
এছাড়াও দলীয় নেতা-কর্মীদের অপকর্ম এবং সর্বপোরি যারা মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়েছেন সেই সব মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের অধিকাংশই নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করায় কুষ্টিয়ার তিনটি আসনে তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে একবার জয় পেয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। সেখানে এবার তিনটি আসনে জয় পেয়েছে তারা।
এই সফলতার পেছনের কারণ জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার বলেন, বিগত দিনে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপির নেতাকর্মীদের নেগেটিভ কর্মকাণ্ড ও দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের সুবিধা দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের নেতাকর্মীদের জনসম্পৃক্ততা আমাদের পৌঁছে দিয়েছে জয়ের বন্দরে। মোটা দাগে বললে এই তিনটি কারণ আমাদের জয়ের জন্য বড় ভূমিকা রেখেছে। নিজ ঘাঁটিতে বিএনপির এই পরাজয়ের কারণ জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ওবায়দুল হক বলেন, ভোট অনেক সময় প্রচারের উপরও নির্ভর করে। এবার সম্ভাবত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ভোটারদের কাছে বেশি পৌঁছাতে পেরেছেন। নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানাতে পেরেছেন। সর্বপরি ভোটাররা বেছে নিয়েছে। এর বাইরে ঢালাও ভাবে বড় কোনো কারণ আমি দেখছি না।
