কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বসতবাড়ির পিছনে অবস্থিত বাগানের একটি গাছ থেকে হেকমত আলী শেখ (৭৮) নামের এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের ছাতিয়ান গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের মৃত আফাসতুল্লাহ শেখের ছেলে ও ৬ সন্তানের জনক। স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, নিহত হেকমত দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। মানসিক অবসাদ থেকে এরআগেও কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
তিনি আজ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আর পুলিশ বলছে, কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধ হেকমত আলী শেখ দীর্ঘদিন মানসিক রোগে ভুগছিলেন। বর্তমানে তিনি পাবনা মানসিক হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে প্রায়ই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও স্বজন ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। আরো জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার ফজরের আযানের সময় হেকমত আলীকে চার্জার লাইট নিয়ে বসতবাড়ির পিছনে অবস্থিত বাগানের দিকে যেতে দেখেন প্রতিবেশীরা। পরে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জসিম নামে এক কৃষক মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় তাকে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তিনি বিষয়টি হেকমতের স্বজনদের খবর দেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে গলায় পেঁচানো ওড়না কেটে মরদেহটি নিচে নামান এবং পুলিশকে খবর দেন। নিহত হেকমতের ছেলে রাজা শেখ বলেন, বাবা অনেকদিন হলো পাগলের মত চলাফেরা করতেন। এরআগেও দুইবার গলায় দড়ি নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি টের পেয়ে পাবনা মানসিক হাসপাতালের চিকিৎসকও দেখিয়েছি। কিন্তু রোগ ভালো হয়নি। আর গতকাল সকালে বাড়ির পিছন থেকে ঝুলন্ত লাশ পাওয়া গেছে। তাঁর ভাষ্য, মানসিকভাবে বেকারগ্রস্থ হয়ে বাবা আত্মহত্যা করেছেন। ছাতিয়ান গ্রামের সাবেক মেম্বর মো. সরোয়ার বলেন, হেকমত দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিল। প্রায়ই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। হয়তো তিনি আত্মহত্যাই করেছেন। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, হেকমত আলী নামের এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কারো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নিহত হেকমত দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক রোগে ভুগছিলেন।
