বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া হাই স্কুল মাঠে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদকের আসর বসার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মাঠের একাংশ দখল করে লেপ-তোষক তৈরির কারখানাসদৃশ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের এক পাশে কয়েকজন যুবক জুয়া খেলছেন। আশপাশে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন। স্থানীয়রা জানান, বিকেলের পর জুয়ার আসর আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।
সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাঠের বিভিন্ন স্থানে জুয়া খেলা ও মাদক কেনাবেচা চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে মাঠের একাংশে বাঁশ ও ত্রিপল টানিয়ে লেপ-তোষক তৈরির জন্য তুলা প্রসেসিং ও সংরক্ষণের কাজ করতে দেখা গেছে। সচেতন মহলের অভিযোগ, এভাবে দখলদারিত্বের কারণে মাঠের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তুলা ও আবর্জনার কারণে পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মাঠকে দখল ও অপরাধমুক্ত করার দাবি জানান। কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সাব্বির মোহাম্মদ কাদেরী সবু বলেন, “শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি অবহেলায় কোনোরকমে টিকে আছে। স্থানীয় লেপ-তোষক ব্যবসায়ীরা মাঠের একাংশ কার্যত কারখানায় পরিণত করেছেন। সীমানা প্রাচীর ও গেট না থাকায় রাত হলে এটি মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মাঠটি সংরক্ষণ ও খেলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করুক।”
মাঠ দখলের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাবানা ইয়াছমিন জানান, বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অবগত করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসীর দাবি, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই মাঠকে জুয়া, মাদক ও দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপেই কেবল এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।
