কুষ্টিয়ায় নির্বাচনে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় নির্বাচনে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া-০৩ (সদর) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. জাকির হোসেন সরকার প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, আচরণবিধি-২০২৫ লঙ্ঘনের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ দেওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিতর্কিত ও আইনবহির্ভূত ভূমিকা পালন করছেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবি থানাধীন শান্তিডাঙ্গা গ্রামের মো. আব্দুস সোবহানের পুত্র মো. রাশিদুল ইসলাম প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে “সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা” শিরোনামে ১৫ পৃষ্ঠার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে মোট ৩১টি বিধিমালা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৭ নম্বর বিধিমালা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার, ব্যানার, লিফলেট ও বিলবোর্ড সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে। ওই বিধিমালার ‘ঝ’ উপবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও মুদ্রণের তারিখ বিহীন কোনো লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা ফেস্টুন ব্যবহার করা যাইবে না।”

এদিকে আদালতের আদেশের ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও “মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও মুদ্রণের তারিখ বিহীন” লিফলেট, হ্যান্ডবিল বা ফেস্টুন অপসারণে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজা কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি। এতে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

পৃথক দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংসদীয় আসন নং ৭৭, কুষ্টিয়া-৩ এর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ব্যানার অপসারণের নির্দেশও দেওয়া হয়।

আমির হামজার পক্ষে তার নিযুক্ত আইনজীবী কাজী তৌহিবুল ইসলাম জরিমানা বাবদ ১০ হাজার টাকা নগদে পরিশোধ করেন এবং সে মোতাবেক রশিদ গ্রহণ করেন।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন। আমরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা পাইনি। এমনকি মহামান্য আদালতের রায় বাস্তবায়নেও তিনি গড়িমসি করছেন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।”

ব্যানার অপসারণের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বিষয়টি আমি কর্তৃপক্ষকে জানাবো।”

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।