বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় আইন উপেক্ষা করে প্রকাশ্যেই চলছে নিষিদ্ধ গাইড ও নোটবই বিক্রি। গাইড ও নোটবই মুদ্রণ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ হলেও প্রশাসনের চোখের সামনেই কুষ্টিয়ার খুচরা বই ব্যবসায়ীরা বিক্রি থেকে শুরু করে গাড়ি ভর্তি করে জেলার বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করছে। বিগত বছরের তুলনায় চলতি বছরে এই বেআইনি ব্যবসা আরও অবাধ ও নির্বিঘ্নে জমে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ইসলামিয়া কলেজ মার্কেটজুড়ে নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চলছে।
প্রতিদিন দলে দলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এমনকি শিক্ষকও এসব দোকানে এসে গাইড ও নোটবই কিনছেন। মার্কেটের বিভিন্ন বইয়ের দোকানের সামনে সারাক্ষণই ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইসলামিয়া কলেজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় একাধিক গোডাউনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ গাইড বই মজুত রাখা হয়েছে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকটি দোকান তড়িঘড়ি করে শাটার বন্ধ করে সটকে পড়ে ব্যবসায়ীরা। নিষিদ্ধ গাইড বই বেচাকেনায় সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে পপি লাইব্রেরি ও নিউ বিশ্ব পরিচয় লাইব্রেরির সামনে। অভিযোগ রয়েছে, পপি লাইব্রেরি খুচরা বিক্রির পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় গাইড ও নোটবই সরবরাহ করছে। প্রতিষ্ঠানটি একাধিক প্রকাশনীর পরিবেশক হওয়ায় প্রতিদিন বস্তা বস্তা গাইড বই সেখানে মজুত করা হয় এবং পরে গাড়ি বোঝাই করে কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে পাঠানো হয়।
আইন অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের নোটবই নিষিদ্ধকরণ আইনের ৩ নম্বর ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নোটবই মুদ্রণ, প্রকাশনা, আমদানি, বিক্রয়, বিতরণ কিংবা প্রচার করতে বা এসব উদ্দেশ্যে মজুত রাখতে পারবেন না। এই আইন লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। পরবর্তীতে একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নোটবইয়ের পাশাপাশি গাইডবইও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কিন্তু আইন উপেক্ষা করে কুষ্টিয়ায় পপি লাইব্রেরি ও নিউ বিশ্ব পরিচয় লাইব্রেরিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ নোট ও গাইড বই বিক্রি করে আসছে। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গাইড বই বাজারজাত করতে বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রতিনিধিরা স্কুল ও মাদ্রাসায় বিপুল অঙ্কের অর্থ ঢালছেন। নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইডবই শিক্ষার্থীদের কিনতে উৎসাহিত করতে শিক্ষকদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কোথাও কোথাও স্কুল-কলেজের উন্নয়ন তহবিল বা বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের নামে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষক সমিতির কিছু নেতারা। পাশাপাশি কুষ্টিয়ার পুস্তক প্রকাশ ও বিক্রেতা সমিতিসহ কয়েকটি প্রভাবশালী বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই অনৈতিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করছে বলে যানা যায়। অভিযোগের বিষয়ে পপি লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ পুস্তক, প্রকাশ ও বিক্রয় সমিতি কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি নিষিদ্ধ কোনো নোটবই বা গাইডবই বিক্রি করি না। এ বিষয়ে নিউ বিশ্ব পরিচয় লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী টিপুকে একাধিকবার মুটোফোনে ফোন করলেও তিনি সারা দেননি। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন বলেন,”নোট ও গাইডবই নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত একটি আইন রয়েছে। আমাদের মোবাইল কোর্টের তফসিল অনুযায়ী অবশ্যই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
