কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ দরজায় কড়া নাড়ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। সপ্তাহ দুয়েক পরে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভোট। সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনেও চায়ের দোকান থেকে হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা সবখানে এখন চলছে ভোটের গল্প। এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যবদলে কে হবেন এমপি, কোন দল গঠন করবে সরকার। এই নিয়ে চলছে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে চলছে তুমুল বাকযুদ্ধ। ইতিমধ্যে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তারা গ্রাম থেকে শহর, হাট থেকে মাঠ, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তবে এই আসনে এখনও দল গোছাতে দৌড়ঝাঁপ করে বেড়াচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। সাধারণ ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী আনোয়ার খাঁন ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তারা ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু দলীয় ক্রন্দল ও একাধিক ব্যক্তি প্রার্থী হওয়ার কারণে প্রচার প্রচারণায় পিছিয়ে রয়েছে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তিনি ভোটের মাঠে এখনও দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে কাজ করছেন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া ৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ সাদী এবং কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক। মূলত এই তিন নেতাকে কেন্দ্র করে বিভক্ত এই আসনের নেতাকর্মীরা। সেজন্য দল থেকে মেহেদী রুমী মনোনয়ন ঘোষণার পর তার বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিক্ষোভ ও কাফনের কাপড় পরে মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন সাদী ও আনছারের সমর্থকরা। পরে এই দুই নেতা নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।
কিন্তু যাচাই বাছাইয়ে আনছার বাদ পড়েন আর শেষ পর্যন্ত সাদী প্রত্যাহার করেন। তবুও ধানের শীষের পক্ষে এই দুই নেতার কর্মী – সমর্থকরা প্রচার বিমূখ ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে এই দুই নেতা তাদের কর্মী – সমর্থক নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী রুমীর সঙ্গে একট্টতা ঘোষণা করেন এবং ঢিলেঢালা ভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। দলীয় ক্রন্দল ও একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর কারণে প্রচারণায় পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করেছেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাদীর সমর্থক হাজী মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, বড় দল ও তিনজন প্রার্থী হওয়ায় গ্রুপিং ছিল। সেজন্য প্রচার – প্রচারণা কিছুটা কম হয়েছে। তবে মঙ্গলবার থেকে তিন গ্রুপই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে। কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আনছারের সমর্থক মো. লুৎফর রহমান বলেন, দেরিতে হলেও প্রার্থীসহ সকল বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
ধানের শীষ একটি জনপ্রিয় প্রতীক। সবাই মিলে কাজ করলে ধানের শীষেরই বিজয় হবে। আরো জানা গেছে, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৪৭জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ১৩ জন। এছাড়াও হিজড়া ভোটরের সংখ্যা রয়েছে ৫ জন। আসন্ন নির্বাচনে মোট ১৫২টি ভোটকেন্দ্রের ৮৪১টি কক্ষে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। ধানের শীষ, হাপাখা, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীসহ এই আসনে আনরস প্রতীকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির শহিদুল ইসলাম, উদয়মান সূর্য প্রতীকে গণফোরামের মো. আব্দুল হাকিম মিঞা ও রকেট প্রতীকে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির তরুন কুমার ঘোষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনোয়ার খাঁন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। ভোটের মাঠে আছি। জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সকল দলের কাছেই ভোট প্রার্থনা করছি। বিএনপির দলীয় ক্রন্দলে সুবিধাজনক
অবস্থায় আছে হাতপাখা মার্কার কর্মী – সমর্থকরা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন বলেন, ভোটের প্রচার প্রচারণায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এগিয়ে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে গিয়ে একাধিকবার ভোট প্রার্থনা করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনে বিএনপি হবে জামায়াতের নিকটতম প্রতিবন্ধী। বিপুল ভোটে তিনি বিজয় লাভ করবেন। বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ বলেন, বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। অনেকেই প্রার্থী হতে চেয়েছিল। তবে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষ্যে ভোট করছেন। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে বিএনপির বিজয় হবে।
