মিরপুরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

মিরপুরে সংঘবদ্ধভাবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন, ভয়ভীতি, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সংঘবদ্ধভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মিরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী নাজমী আক্তার (৩১)। তার স্বামী আবু সাঈম বিশ্বাস। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার বেলঘরিয়া এলাকায়।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে তার দেবর মুনিয়ার ও আশপাশের কয়েকজন ব্যক্তি মিলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। ওই ঘটনায় তিনি মিরপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা মামলা তুলে নিতে নাজমী আক্তার ও তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন সময় হুমকি, ভয়ভীতি ও নানাভাবে হয়রানি করা হয়। মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৫ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীর বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা ঘরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং নারী, শিশু ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, হামলার সময় তার স্বামী আবু সাঈম বিশ্বাসকে কিল, ঘুষি ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে নাজমী আক্তারকেও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।

অভিযোগে দাবি করা হয়, হামলাকারীরা ঘরের আলমারি, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভেঙে নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য কয়েক লক্ষ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়। হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাদেরও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাম্মৎ লাবিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী ঢাকায় একটি চাকরিতে কর্মরত। তিনি গতকাল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন।

স্বামী বাড়িতে আসার খবর পেয়ে একই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সাতজন পুরুষ ও দুইজন নারী আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমি রান্না করছিলাম। বাধা দিতে গেলে তারা আমাকে গালাগালি করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আরেক ভুক্তভোগী উর্মি খাতুন বলেন,ধর্ষণের একটি মামলা নিয়ে গত এক বছর ধরে আসামিদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তারা জামিনে বের হয়ে আসে। এরপর তারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। এ বিষয়ে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।