কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা কমে অর্ধেকে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা কমে অর্ধেকে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ২০২৪ সালের ৫ ই আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আ›োলনে তোপের মুখে পড়ে পতন হয় আওয়ামীলীগ সরকারের। দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে ড. মোহাম্ম ইউনুস। মূলত আওয়ামী লীগ শাসিত সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজনীতির পালাবদল নিয়ে নানমুখী সংকট দেখা দেয়। সাধারণ জনগন এবং রাজনৈতিক লগুলোর চাপের মুখে আওয়ামী লীগের সহ দলটির অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার।

সেই সাথে রাজনৈতিক দল গুলোর প্রত্যাশা পূরণে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংস নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার পর থেকে নানান প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে নামে রাজনৈতিক লগুলো। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব সহ েেশর সকল গণমাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও দিতে দেখা যায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের। ভোটের রাজনীতি জয়লাভ করতে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে পড়েন অধিকাংশ রাজনৈতিক দল।

জোট নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা শেষে নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় রাজনৈতিক দলগুলোকে। এদিন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে কুষ্টিয়ার রাজনীতিতে বাংলাশে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা ততই ভাটা পড়তে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আমির হামজার বিগত কয়েক বছরের বক্তব্য নিয়ে সাধারণ ভোটরদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। গত ২০২৩ সালের একটি ওয়াজ মাহফিলে প্রায়ত সাবেক প্রাধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে উদ্দেশ্যে করে আমির হামজার দেওয়া একটি বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় আমির হামজাকে। সাধারণ ভোটারদের মতে কুষ্টিয়াতে জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয়তা কমার পিছনে সব থেকে বেশী দায়ী আমির হামজা।

গত ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারী শনিবার কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মাঠে সুধী সমাবেশে এসছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেই সময়ে কুষ্টিয়া শহরের প্রতিটা অলিগলি লোকারণ্যে পরিণত হয়েছিলো। সরকারী কলেজের আশে পাশের এলাকা ছাপিয়ে কুষ্টিয়া এন এস রোড ও মজমপুর সহ শহরের প্রতিটি অলিগলিতে ছিলো হাজার হাজার মানুষের ভীড়। ঐ সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা কর্মি সহ নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হয়েছিলো বলে ধারণা করা হয়। যার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মত। এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ লীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া আবরার ফাহা স্টেডিয়ামে আসেন বাংলাশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সমাবেশে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন কুষ্টিয়ার ৪টি আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীদের হাতে। তবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী সমাবেশে আগমন উপলক্ষ্যে ২ লাখ মানুষ সমাবেত করার কথা জানিয়েছিলেন দলটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা কর্মিরা। যার ধারের কাছের পৌঁছাতে পারেনি তারা। মাত্র এক বছর ২১ েিনর ব্যবধানে দলটির জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ধারণা করা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর জনসমর্থনে ভাটা পড়ার কারণেই এমনটি হয়েছে। যা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর ভোটে বিস্তর প্রভাব ফেলতে পারে। উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তাদের অধিকাংশই বলেন ৬০-৭০ হাজার মানুষ সমাগত হয়েছিলো। অনেকেই বলেন উর্ধে ৮০ েেক ৮৫ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলো।

আবার অনেকের মতে আশে পাশে জেলা গুলো েেক আগত কর্মি সমর্থকদের সংখ্যাও ছিলো নজরে পড়ার মত। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষন করে খো যায়, আবরার ফাহা স্টেডিয়াম মাঠের প্রায় ৪০ শতাংশ ফাঁকা ছিলো। এছাড়াও গ্যালারির অবস্থাও ছিলো একই রকম। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন চারটি আসন মিলে ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষ বা ভোটার উপস্থিতি দলটির জন্য হতাশার। আবার অনেকেই লেখেন চারটি আসন মিলে এক আসনে বিজয়ী হওয়ার মত উপস্থিতিও ছিলো না। যাতে স্পষ্ট বোঝা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়াতে দলটির জনপ্রিয়তা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসছে। যা ২০২৫ সালের জানুয়ারী মাসে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ মাঠের সুধি সমাবেশ এবং গতকালের নির্বাচনী সমাবেশের উপস্থিতির তুলনা করলেই বোঝা যায়।