কুমারখালীতে চালকের দক্ষতায় প্রাণে বাঁচলেন ৪ পুলিশ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে চালকের দক্ষতায় প্রাণে বাঁচলেন ৪ পুলিশ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ঘড়ির কাটায় আনুমানিক ভোর ৫টা বাজে। সবার চোখে ঘুমঘুম ভাব। এ সময় হঠাৎ একটি রড বোঝায় ট্রাক এসে পুলিশের পিকআপ গাড়ির পিছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপটি ছিটকে গিয়ে সেতুর পিলারে গিয়ে ধাক্কা মারে। তখন লাফ দিয়ে না পালিয়ে গাড়ির স্টিয়ারিং আরও শক্ত করে ধরে ঝোপঝাড়ের ভিতর দিয়ে গাড়িটিকে দক্ষ হাতে নিয়ন্ত্রণ করেন চালক। এরপর তিনি (চালক) ইঞ্জিন চালু রেখে গাড়িটিকে হ্যান্ডব্রেক করেন এবং দ্রুত বাইরে এসে সড়কের ওপর ছিটড়ে পড়ে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার হাসপাতালে নিয়ে যান। আর এতেই চালকসহ প্রাণে বেঁচে ফিরলেন চার পুলিশ সদস্য।

কুষ্টিয়া – রাজাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালীর সদকী ইউনিয়নের দড়ি বাটিকামারা এলাকার মেসার্স কুমারখালী ব্রিকসের সামনে গতকাল রোববার(২৫ জানুয়ারি) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের পিকআপ গাড়িটির পিছন ও সামনের অংশের বেশখানেকটা ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য  কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন চার পুলিশ। তবে ঘাতক ট্রাকটিকে সনাক্ত বা জব্দ করতে পারিনি পুলিশ। আহতরা হলেন – কুমারখালী থানার সহকারী উপপরিদর্শক ( এ এস আই) বসির উদ্দিন, পুলিশ সদস্য জসিম উদ্দিন ( গাড়ি চালক), ফিরোজ আহমেদ ও সজিব বিশ্বাস। তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে থানায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, থানা চত্বরে রাখা রয়েছে দুর্ঘটনার শিকার পিকআপ গাড়িটি। তার সামনে ও পিছনের অংশে ভাঙচুরের ক্ষত।

গাড়িটি পরিবেক্ষণ করছেন থানার ওসি জামাল উদ্দিন। পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন চালক জসিম উদ্দিন। তাঁর চোখেমুখে আতঙ্কের চাপ। এ সময় ঘটনার বর্ণানা দিয়ে পুলিশ সদস্য ( চালক) জসিম উদ্দিন বলেন, ভোররাতে মহাসড়কের ফুলতলা থেকে তরুনমোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় একটি রড বোঝায় দ্রুতগামী ট্রাক এসে গাড়ির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। তখন গাড়িটি ছিটকে গিয়ে সেতুর পিলারে ধাক্কা মারে। এ সময় স্টিয়ারিং আরো শক্ত করে ধরে মূহুর্তেই ঝোপঝাড়ের ভিতর দিয়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ করি।

এরপর কয়েকটি চলন্ত গাড়ি থামিয়ে তাঁদের সহযোগীতায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা দুই সহকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি এবং ওসি স্যারকে ফোন করি। তাঁর ভাষ্য, ঘাতক ট্রাকের চালক হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিল। মূহুর্তেই মধ্যেই সবকিছু ঘটে গেল। গাড়ির বাম পাশের দরজার লক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অফিসার বের হতে পারেনি। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউ আমাদের বাঁচাই নি! চোখের সামনে এখনও সবকিছু জলজল করে ভাসছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, আল্লাহর রহমতে এবং চালকের দক্ষতায় প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন আমার চার সহকর্মী। তাঁরা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে মোটামোটি সুস্থ আছেন। তবে গাড়িটির পিছনে ও সামনের অংশ ভেঙে গেছে। ঘাতক ট্রাকটি সনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।