কুমারখালীর দুর্গম চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীর দুর্গম চরাঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ২০, ২০২৬

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পদ্মা পাড়ের দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থিত কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়নে প্রায় দুই শতাধিক দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৯ জানুয়ারি) শেষ বিকেলে চরসাদিপুরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার, চরসাদিপুরে ইউসিয়ন পরিষদের সচিব সোহেল রানা, ইউপি সদস্য বৃন্দসহ প্রমূখ। জানা গেছে, পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ২৫ বর্গমাইল আয়তন নিয়ে ১৯৯৮ সালে গঠিত চরসাদীপুর ইউনিয়ন।

সেখানে ৯ টি গ্রামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটি উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমটার এবং জেলা শহর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমটার দুরে। প্রায় ৬ কিলোমিটার পদ্মা নদীর বুকের ওপর দিয়ে জেলা ও উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন চর সাদিপুরের বাসিন্দারা। ভরা বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ইঞ্জিনচালিত নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে নদীর অধিকাংশ জুড়ে চর জাগে। তখন পানিতে নৌকা ও চরে ইজিবাইক, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল এবং পাঁয়ে হেঁটে যাতায়াত করেন তাঁরা। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও সময় অপচয়ের সঙ্গে পাল্লা দেয় চরম ভোগান্তি। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় অবহেলিত চরাঞ্চলে মানুষ। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চরসাদিপুরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নানাবয়সি নারী – পুরুষ ভিড় করেছেন। তাঁদের হাতে কম্বল তুলে দিচ্ছেন ইউএনও। প্রথমবারের মতো ইউএনওর হাত থেকে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল পেয়ে খুশি চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।

এ সময় ষাটোর্ধ নারী আলেফা খাতুন বলেন, ‘ আমার ছোয়ালপাল নাই। রাত আইলি শরীর টালা হইয়া যায়। কি যে কষ্ট হয়। টিএনও স্যার একখেন কম্বল দিছে। খুব খুশি হইছি।’ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শারীরিক প্রতিবন্ধী আব্দুল আলিম বলেন, ‘ মেম্বর – চেয়ারম্যানদের অনেকবার বলেও কোনোদিন কম্বল পাইনি। এবার ইউএনও নিজ হাতে কম্বল দিছে। আইডি কার্ড জমা দিয়ে একটি কম্বল পেয়েছি। এবার মেলা মানুষ কম্বল পাইছে।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, পদ্মানদীর কারনে চরসাদিপুরে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। পাশ্ববর্তি জেলা ঘুরে এখানে আসতে হয়। এতে সকলেরই বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। আজ সরকারি বরাদ্দকৃত প্রায় দুই শতাধিক কম্বল অসহায়, দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও উপস্থিত সকলকে গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা হয়।