বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই বেগবান করার দাবিতে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) জেলা শাখা। গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ এনএস রোড প্রদক্ষিণ করে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে কুষ্টিয়া থানা মোড়ে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন তারা। সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ ও আমলা-দালাল পুঁজিবিরোধী লড়াই বেগবান করুন প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, সাম্রজ্যবাদী সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ব শ্রমিক শ্রেণি, নিপীড়িত জাতি ও জনগন সংগঠিত হন এবং রুখে দাড়ান, ভূরাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস-সমৃদ্ধ ল্যাটিন আমেরিকা নিয়ে মার্কিনের নেতৃত্বে, মার্কিন সাম্রজ্যবাদী ও চীন রাশিয়ার তীব্র প্রতিযোগীতা- প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্বরূপ উম্মোচন করুন।
আন্তঃসাম্রজ্যবাদী যুদ্ধের বিপদ তথা সাম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে সজাগ ও সোচ্চার হোন, শ্লোগানে, এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মুক্তারুল ইসলাম, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আসাদুল হক। এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহবায়ক আজব আলী গীতিকার, এনডিএফ কুমারখালি উপজেলার আহবায়ক ও কৃষক সংগ্রাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, এনডিএফ জেলা কমিটির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান পারভেজ। এনডিএফ মিরপুর থানা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক আসাদুল ইসলামসহ নেতাকর্মী।
এসময় সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও দেশীয় আমলা-দালাল পুঁজিপতিরা সাধারণ মানুষের উপর শোষণ-নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং মৌলিক অধিকার হরণের জন্য এই ব্যবস্থাই দায়ী বলে তারা অভিযোগ করেন। বক্তারা আরও বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্রাজ্যবাদ ও সামন্তবাদবিরোধী সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। এ লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, ছাত্র-যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তারা। শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। তবে সাময়িকভাবে অটোরিকশার ভীড়ে যানযট সৃষ্টি হলেও ট্রাফিক পুলিশ তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
