কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে এক আওয়ামী লীগ নেতার ২০০টি বেগুনগাছ ও ১০ শতাংশ জমির রসুনের গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের। এছাড়াও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের পানির সাব-মার্সিবলটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের চর এতমামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের নাম আব্দুল লতিফ লাইফা বিশ্বাস (৬১) তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও চর এতনামপুর গ্রামের মৃত সাদেক আলীর ছেলে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিন চর এতমামপুর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, গড়াই নদীর কূলঘেঁষে গ্রামটির মাঠ।
মাঠে কলা, বেগুন, পেঁয়াজ, রসুনসহ হরেক ফসলের চাষবাদ। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা লাইফার জমির কয়েকশো বেগুনের গাছ কাটা। পড়ে আছে ছেড়া বেগুন। ওই জমিতে সেচের জন্য বসানো সাবমার্সিবলটি নেই। কাটা রয়েছে বিদ্যুতের তাড়। পাশের আরেকটা জমির রসুনের চারা গাছ গুলো কাটা রয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ছুটে এসেছেন তা দেখতে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা লাইফা জানান, তিনি সকালে মাঠে এসে দেখেন ২০০টির মতো বাগান গাছ ও ১০ শতাংশ জমির রসুনের গাছ কাটা। তাড় ও পাইপ আছে, সাবমার্সিবলটি নেই। শত্রুতা করে কে বা কারা ক্ষতি করেছে তা তিনি জানেন না। তার ভাষ্য, ক্ষতিগ্রস্থ ২০০টি গাছ থেকে অন্তত ৫০ -৬০ মণ বেগুন হতো।
এছাড়াও অন্তত ৭ মণ রসুন হতো। চারা, জমিচাষ পরিচর্চা সহ তার এ সব চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আর সাবমার্সিবলটি ১৮ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। সবমিলে তার প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, কে বা কাহারা রাতের আধারে এমন অটকর্ম করেছেন তা জানিনা। এ ঘটনায় অন্যান্য কৃষকরাও আতঙ্কিত। এলাকার শান্তি নষ্ট করতে হয়তো বাইরের লোক এসে এভাবে ক্ষতি করছে। যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, এক কৃষকের ক্ষেত নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি অত্যন্ত নেক্কারজনক। তাকে পুলিশের সহযোগীতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুমারখালী থানার পু্লশি পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
