বিশেষ প্রতিনিধি ॥ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৪ টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে কাবিল উদ্দিন কিন্ডার গার্ডেন স্কুল প্রাঙ্গনে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টু। সার্বিক সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। সন্মানিত অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, প্রধান বক্তা ছিলেন, জেলা বিএনপি সদস্য সচিব কুষ্টিয়া সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, জেলা বিএনপির সদস্য শহিদুজ্জামান খোকন ও আবু তালেব এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান। সদর উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মুন্সি নজরুল ইসলাম ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন,
ইবি ছাত্র দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, জেলা ছাত্র দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জামিরুল ইসলাম জামির, হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্র দলের আহবায়ক আব্দুল কাদের, সদস্য সচিব মারুফ হোসেন পিয়াসসহ দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পরে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা, দেশ ও জাতির কল্যানে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমাদের নেত্রী, আমাদের আদর্শিক মা আমাদের মাঝে আর নেই। আল্লাহ তাকে জান্নাত বাসী করুন। বেগম খালেদা জিয়ার জীবনদশায় নির্যাতন, নিপীড়নের স্বীকার হয়ে বিনা চিকিৎসায় আস্তে আস্তে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়েছেন। উনি জীবনদশায় ছয়বার কারাবরণ করেছেন এবং শেষবার ২০১৮ সালে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা সরকার যখন উনাকে গ্রেফতার করেছিলেন, সে সময় কিন্তু উনি সুস্থ ছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের পরে স্লুপয়জনিং এর মাধ্যমে আস্তে আস্তে উনাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
আমরা বার বার উনার উন্নত চিকিৎসার জন্য দাবি করেছিলাম, বিদেশে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু ওই খুনি সরকার সেই দাবির প্রতি কোন কর্নপাত করেননি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ৫ আগষ্ট দেশের পট পরিবর্তনের পরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেলেন, তখন উনার শরীরে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বাসা বেধেছিলো। নির্যাতনের স্বীকার হওয়ায় অবশেষে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আল্লাহ তাকে সন্মানিত করেছেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ক্ষমতায় থাকাকালীন কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি।
জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তার মতো নেত্রী আমরা ২য়বার পাবো না। তবে আগামী দিনে তারই সুযোগ্য সন্তান দেশ নায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই, আমাদেরকে ধৈর্য, ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আগামী দিনে গণতান্ত্রিক আন্দোলন জোরদারে কাজ করতে হবে। দেশনেত্রীর আদর্শ বুকে ধারণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
