দরজায় জনগণ-সাক্ষাত দেননা উপজেলা নির্বাহী অফিসার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

দরজায় জনগণ-সাক্ষাত দেননা উপজেলা নির্বাহী অফিসার 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় শীতবস্ত্রসহ নানা সরকারি সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ইউএনও কার্যালয়ের দরজায় অপেক্ষা করছেন অসহায় মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আখতার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা ও হতদরিদ্ররা। বীর মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার হোসেন জানান, বিধবা ও গরিব মানুষের জন্য কম্বল নিতে ইউএনও’র সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এক কর্মকর্তা থেকে আরেক কর্মকর্তার দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না পেয়ে ঘুরছি আর অপেক্ষা করছি। উপজেলার এলোঙ্গীপাড়ার বাসিন্দা বৃদ্ধা জবেদা খাতুন বলেন, তার স্বামী ও দুই ছেলে মারা গেছেন। ছোট নাতি-নাতনিদের নিয়ে ঠান্ডার রাতে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পাঁচ দিন ধরে ইউএনও কার্যালয়ে গেলেও তাকে রুমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। অফিস থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে দেখা করা যাবে না। কম্বল নিতে আসা একাধিক অসহায় মানুষ অভিযোগ করে বলেন, চার-পাঁচ দিন ধরে তারা কার্যালয়ের সামনে বসে আছেন। কারও সঙ্গে কথা বলা যায় না, কেউ সমস্যার কথা শোনেন না।

তাদের দাবি, গরিবদের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বল প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানানোর পরপরই কার্যালয়ের সামনে অবস্থানরত অসহায় মানুষদের সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, বক্তব্য দেওয়ার কারণে তারা আর কোনো কম্বল পাবেন না। এ ঘটনায় ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সহায়কের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনিয়মের অভিযোগে তথ্য অধিকার আইনে ইউএনও বরাবর আবেদন করেও নির্ধারিত সময়ে তথ্য পাননি সাংবাদিকরা।

সাক্ষাতে ইউএনও ব্যস্ততার কথা জানিয়ে তথ্য দিতে আপাতত অপারগতা প্রকাশ করেন এবং তথ্য না পেলে আপিল করার সুযোগ আছে বলে জানান। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান ইউএনও যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দপ্তরের দূরত্ব বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে গেলেও অধিকাংশ সময় তাকে দপ্তরে পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে পাওয়া গেলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউএনও ফারজানা আখতার-এর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। না হলে শীতের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে সমাজের অসহায় মানুষ।