খোকসায় ইজারাকৃত জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় ইজারাকৃত জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১২, ২০২৬

খোকসা প্রতিনিধি ॥ ইজারাকৃত জমির দখল নেওয়া কেন্দ্র করে বিরোধের জের ধরে আব্দুল কুদ্দুস (৩৭) নামের এক যুবককে আখের গরম গুড় দিয়ে বুক ও ডান হাত ঝলসে দেওয়াসহ অপর এক যুবকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার খোকসার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন আমবাড়িয়া গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গরম গুড়ে ঝলসে যাওয়া আব্দুল কুদ্দুস একই গ্রামের আব্দুল মাজেদ প্রামানিকের ছেলে। অপর আহত শহিদ একই গ্রামের করিম খানের ছেলে। সে হামলাকারিদের চাচা ভাই। আহতরা একই জমি ভাগে ইজারা নিয়েছেন। দগ্ধ ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তাদের জমির আইলে আমবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার ৪০ শতক চাষের জমি রয়েছে। এ বছর ইজারার ঘোষনা দিলে কুদ্দুস শহিদ ও অপর একজন প্রায় ১লাখ ২৭ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য ইজারা গ্রহণ করেন।

ইতোমধ্যে কিছু জমি দখল নিয়ে চাষ শুরু করেছেন। কিন্তু এ জমির পূর্ববর্তী ইজারাদার কাদের খান অবশিষ্ট জমি ছেড়ে না দিয়ে টালবাহানা শুরু করে। শুক্রবার দুপুরে আব্দুল কুদ্দুস সহ অন্য কৃষকরা জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলতে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা তাদের উপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুসের গায়ের উপর আখের গরম গুড় ছুড়ে মারতে থাকে। এতে তার বুক ও ডান হাতের বাহুর সিংহ ভাগ ঝলসে যায়। এ সময় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে অপর ইজারাদার শহিদ খান গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তি করে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন, জমির পূর্ববর্তী ইজারাদার কাদের খানের সাথে মাদ্রার কর্তৃপক্ষের বনিবনা না হওয়ায় চলতি বছরের কার্তিক মাসে জমি ইজারা দেওয়া হয়।

তারা তিনজনে সমুদয় জমির ইজার গ্রহন করেন। এর পর থেকে কাদের খান তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়। জমি দখলে রাখার চেষ্টা করে। এ দিন তারা জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তারা পরিকল্পিত ভাবে আখের গরম গুড় ছুড়ে মারতে থাকে। এতে তার বুক ও ডান হাতের বাহুর সিংহভাগ ঝলসে যায়। আপস রফা করার কথা বলে গ্রামের মাতুবররা তাদের মামলা করতে দেয়নি। তবে তারা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কাদের খানের সাথে কথা বলার জন্য চেষ্টা করা হয়। তিনি এ প্রতিবেদকের সাথে দেখা করেননি। তার ছেলেদের মুঠো ফোনে কল করা হয়। তারও ফোন ধরেন নি। মাদ্রাসার সুপার আবু নাসের জানান, এক বছর আগে জমির ইজারা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাদের খান প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেনি। উল্টো করে নতুন ইজারাদারের উপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনা খুবই দুঃখ জনক। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিয়েছেন। ছাড় পত্র পেলে মামলা করে দেবো। ছাড় পত্র না পেলে আদালত সহজে আসামীদের জামিন দিয়ে দেয়। এ জন্য মামলা নিতে বিলম্ব হচ্ছে।