দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ পদ্মার চর এখন যেন প্রকৃতির আঁকা এক হলুদ ক্যানভাস। দিগন্তজুড়ে সরিষা ফুলের সমারোহ, মিষ্টি ঘ্রাণে মাতোয়ারা পরিবেশ আর ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে শীতের প্রকৃতি ধারণ করেছে অপূর্ব রূপ। কুয়াশা ভেদ করে রোদের ঝিলিকে দোল খাচ্ছে সরিষার হলুদ ফুল যা একদিকে চোখ জুড়াচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকের মনে জাগাচ্ছে আশার আলো। চলতি মৌসুমে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নের পদ্মার চরে মোট ৭৮৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।
এছাড়া পুরো উপজেলায় কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৬০৮ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হলেও এ বছর মোট ২ হাজার ৫৫৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরিষা চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিতে এ মৌসুমে উপজেলার প্রায় ২ হাজার ২০০ জন কৃষককে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার ফলে এবার প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৫৮ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কৃষি অফিস আরও জানায়, চলতি মৌসুমে প্রতি হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে কৃষকের গড় খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ১১০ টাকা।
প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচ উঠিয়ে কৃষকরা ভালো লাভের মুখ দেখবেন। পদ্মার চরের স্থানীয় কৃষক রফিক সরকার জানান, “সরিষা চাষে খরচ ও সময় দুটোই কম লাগে। পদ্মার চরের উর্বর জমি ও অনুকূল পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য খুবই উপযোগী।” এদিকে ফিলিপনগর ইউনিয়নের পোয়ালবাড়ি এলাকার কৃষক আবুল কাশেম বলেন, “সরকারি সহায়তা পাওয়ায় সরিষা চাষ করা সহজ হয়েছে।
এবার ভালো ফলনের আশা করছি।” এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভিন বলেন, “সরকারি প্রণোদনা, উন্নত বীজ ও কৃষকদের সচেতনতার কারণে এ বছর সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশাবাদী।” সব মিলিয়ে দৌলতপুরের পদ্মার চরে সরিষার হলুদ হাসি শুধু প্রকৃতিকে নয়, কৃষকের জীবনেও এনে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি।
