কুমারখালী শহরতলীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নেই রেলগেট - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালী শহরতলীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নেই রেলগেট

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২২, ২০২৫

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার-রাজবাড়ী রেলপথের কুমারখালী রেলস্টেশনের পূর্বপ্রান্তে অবস্থিত ফুলতলা মোড়। পাশেই কুমারখালী সরকারি কলেজের অবস্থান হওয়ায় কলেজ মোড় নামেও পরিচিত স্থানটি। এটি কুমারখালী শহর, উপজেলা পরিষদ চত্বর, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সপ্তাহিক হাটে যাতায়াতের বিকল্প সড়কের মোড়। এই মোড় দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার নানা শ্রেণিপেশার মানুষ চলে করে। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড়ে নেই রেলগেট, গেটম্যান কিংবা সাইনবোর্ড বা পাহাড়ার।

ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬২৬ নম্বর ট্রেনের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক যুবদল নেতা আহত হয়ে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও পাশে থাকা আরো একটি মোটরসাইকেলসহ দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে গেছে। সুস্থ ও নিরাপদে চলাচলের জন্য দ্রুত রেলগেট স্থাপনের দাবি জানান স্থানীয়রা। আহত যুবদল নেতার নাম মো. শহিদুল ইসলাম (৪০)। তিনি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং হাসিমপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিনের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি হর্ণ বাজিয়ে দ্রুতগতিতে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গেট না থাকায় পালসার মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়ে ফুলতলা মোড় পার হওয়ার চেষ্টা করেন শহিদুল।

তখন হঠাৎ ট্রেনটি কাছে চলে আসলে মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে যান শহিদুল। আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তার মোটরসাইকেলটি ছিটকে এসে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলের ওপর এসে পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেল দুমড়ে মুচড়ে যায়। আর শহিদুল হাত ও পা কেটে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ফুলতলা মোড়ে নেই রেলগেট, গেটম্যান, সাইনবোর্ড কিংবা পাহাড়াদার। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেছে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ ও যানবাহন। দুর্ঘটনার খবরে উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। তারা শহিদুলের দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলটি ভ্যানগাড়িতে তুলছেন। এ সময় কুমারখালী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মিষ্টি ব্যবসায়ী ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাজল হোসেন (৩১) বলেন, এখানে রেলগেট নেই। ট্রেনের হর্ণ শুনে রেললাইনের পাশেই মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

সেসময় শহিদুল পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে পার হতে গেলে ট্রেনটি খুব কাছে চলে আসে। তখন তিনি মোটরসাইকেল ফেলে লাফ দেন আর ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেলটি ছুটে এসে আমার মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে। এতে দুইটি মোটরসাইকেলেরই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শহিদুলই আহত হয়েছে। রেলগেট নেই। তাই এদিক – সেদিক খেলাল করে চলাচল করার কথা জানান ভ্যানচালক মেজবর রহমান। তিনি বলেন, খুবই গুরুত্বপূর্ণ মোড় এটি। স্কুল কলেজের ছাত্র, ছাত্রী, স্যার, ব্যাপারীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কিন্তু এখানে জীবনের নিরাপত্তা নেই। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি গেট হলে সকলেরই ভালো হয়। ফুলতলা মোড়ে প্রায় ৯ বছর ধরে কলম, খাতা ও ফটোকপির ব্যবসা করছেন আব্দুল মালেক।

তিনি বলেন, গেট না থাকায় ট্রেন আসছে জেনেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে মানুষ। ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে প্রায় দিনই মানুষ বিপদের সম্মুখীন হন। অনেকই পার হতে না পেরে গাড়ি ফেলে লাফিয়ে কোনোমতো প্রাণে বাঁচে ফেরেন। এখানে রেলগেট স্থাপন হলে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। আহত যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক থেকে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম। পথিমধ্যে রেললাইনের মাঝামাঝি পৌছালে ট্রেনটি খুব কাছাকাছি চলে আসে। তখন মোটরসাইকেলটি পিছানোর চেষ্টা করি। কিন্তু পিছনে আরেকটি মোটরসাইকেল থাকায় পিছানো আর সম্ভব হয়নি। সেসময় দিকবেদিক হারিয়ে লাফ মারি আর ট্রেন এসে গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়।

এতে আমার হাত কেটে গেছে, পায়ে আঘাত লেগেছে। আর গাড়িটি ভেঙেচুরে শেষ হয়ে গেছে। তার ভাষ্য, ফুলতলা মোড়ে রেলগেট কিংবা পাহাড়াদার থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতোনা। দ্রুত রেলগেট স্থাপনের দাবি জানান তিনি। মাঝেমাঝে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করে কুমারখালী রেলস্টেশনের মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে তেমন হতাহতি না হলেও মোটরসাইকেলটি ভেঙে গেছে। প্রকৃতপক্ষে ফুলতলা এলাকাটি রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত। সেজন্য গেট স্থাপন হয়নি। তবে স্থানীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ করলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হবে।