বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় মাঠজুড়ে আগাম সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত। যতদূর চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ রঙের মাখামাখি। আমন ধান কাটার আগেই বিনা চাষে ও রিলে পদ্ধতিতে সরিষা আবাদ করে কৃষকেরা এবার বাড়তি লাভের স্বপ্ন দেখছেন। কৃষি বিভাগের সহায়তা, প্রণোদনা ও অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। সরেজমিনে দেখা যায়, হলুদ ফুলে ভরা সরিষার ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জন আর কৃষকদের ব্যস্ত পদচারণা। আমন ও বোরো ধান চাষের মাঝখানে তুলনামূলক স্বল্প সময়ে ও কম খরচে চাষযোগ্য এই তেলজাতীয় ফসলটি এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে। মাঠজুড়ে ফুলের সমারোহ এরমধ্যেই ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শীত এলেই মাঠ-ঘাট ভরে ওঠে হলুদ রঙের সরিষা ফুলে।
মানুষ ছবি তোলে, কবিতা লেখে, মন ভিজিয়ে নেয়। কিন্তু বেশিরভাগই জানে না, এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা। সরিষা ফুল শুধু চোখের আরাম নয়, শরীরের জন্যও নীরবে কাজ করে যাচ্ছে। অবহেলা করার মতো জিনিস না, একেবারেই না। সরিষা ফুলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে শীতকালে সর্দি-কাশি, জ্বরের প্রবণতা কমাতে সরিষা ফুলের ভূমিকা বেশ কার্যকর। সরিষা ফুলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় সরিষা ফুল থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে এবং শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষিত থাকে। শীতের সময় যখন সবাই অসুখে ভোগে, তখন এটা বেশ কাজে আসে। সরিষা ফুল হজমের জন্য উপকারী।
এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পাকস্থলীর কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। গ্রাম-বাংলায় সরিষা ফুল ভাজি বা ভর্তা খাওয়ার চল আছে, সেটা হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। সরিষা ফুলে থাকা উপকারী চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়ক, ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও কিছুটা কমে। ভিটামিন এ ও সি ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরিষা ফুল ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। আলাদা করে দামি কিছু না খেলেও প্রকৃতি নিজেই অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছে। এছাড়া ক্যালসিয়াম ও আয়রনের ভালো উৎস হওয়ায় সরিষা ফুল হাড় ও দাঁত শক্ত রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি বেশ উপকারী, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহামুদা সুলতানা বলেন, সরিষা এখন কৃষকের জন্য লাভজনক একটি মধ্যবর্তী ফসল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।
