খোকসায় চোর আখ্যা দিয়ে ভ্যানচালককে পেটানো অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

খোকসায় চোর আখ্যা দিয়ে ভ্যানচালককে পেটানো অভিযোগ 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

খোকসা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় চোর আখ্যা দিয়ে পেটানো হয়েছে এক ভ্যানচালককে। এতে ভেঙে গেছে তাঁর ডান হাতের কবজি ও ডান পায়ের একটি হাড়। সপ্তাহখানেক ধরে তিনি শয্যাশায়ী থাকায় বিপাকে পড়েছে পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপির কর্মী রুহুল শেখ গাঁজা সেবনের দায়ে ওই চালককে পিটুনির কথা স্বীকার করে বলেন, মারধরটা বেশি হয়ে গেছে। ১ ডিসেম্বর উপজেলার মোড়াগাছা বাজারের কাছে নির্যাতনের শিকার হন ভ্যানচালক আলিম শেখ। তিনি জয়ন্তী হাজরা গ্রামের বদর শেখের ছেলে। এ বিষয়ে ৫ ডিসেম্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন বদর শেখ।

তবে তিন দিনেও মামলা নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। গত সোমবার নিজ ঘরের শয্যায় বসে নির্যাতনের বর্ণনা দেন আলিম শেখ। তিনি জানান, ১ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়ক ধরে কুমারখালীর জিলাপিতলায় যাচ্ছিলেন। মোড়াগাছা বাজারের ৫০০ গজ আগে একটি করাতকলের পাশে যাত্রীকে ভ্যানে বসিয়ে প্রস্রাব করতে যান। সড়কে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে করাতকলের মালিক ও বিএনপির কর্মী রুহুল শেখ তাঁকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়। মোড়াগাছা বাজারে গিয়ে ভ্যান নিয়ে দাঁড়ান আলিম শেখ।

এ সময় রুহুল শেখ আবারও তাঁর ওপর চড়াও হন। মোবাইল ফোনে কয়েকজনকে ডেকে এনে ভ্যানচোর অপবাদ দিয়ে মারধর শুরু করেন। পরে ইউনিয়ন বিএনপির একাংশের কার্যালয়ের সামনে তাঁকে ভ্যানসহ আটকে রেখে মোবাইল ফোনে কল করে আলিমের বাবা বদর শেখকে ডেকে আনেন রুহুল। সংবাদ দেওয়া হয় থানায়ও। পুলিশ আসার পর তাদের মধ্যস্থতায় আলিম শেখকে তাঁর বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে সই রাখা হয়। স্বজনরা আলিমকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হাত-পায়ে প্লাস্টার করিয়ে বাড়ি ফেরেন আলিম।

স্বামীর ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার বিচার দাবি করে আলিমের স্ত্রী রাশিদা খাতুন জানান, ভ্যান চালিয়েই তাঁর স্বামী সংসার খরচ চালান। ভ্যান চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁর হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দিয়েছে। এখন তারা খেয়ে-না খেয়ে দিন পার করছেন। বদর শেখ মোবাইল ফোনে সংবাদ পেয়ে মোড়াগাছা বাজারে গিয়ে দেখেন, তাঁর ছেলেকে হাত-পা ভেঙে নিজ ভ্যানের ওপর বসিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, পুলিশকে খুশি করে ছেলেকে ফিরিয়ে দেওয়ার নাম করে বিএনপির কর্মী রুহুল তাঁর কছে তিন হাজার টাকা দাবি করে। তিনি ১৫০০ টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় সাদা কাগজে সই নেয় পুলিশ।

ছেলেকে নির্যাতনের বিচার চাইতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খানের কাছে গিয়েছিলেন। বিচারের আশা দিয়ে তিনি তিন দিন ঘুরিয়েছেন। পরে শুক্রবার রাতে খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু মামলা নেয়নি। ফোনে পরিদর্শনে আসার কথা জানালেও সোমবার পর্যন্ত পুলিশের কেউ আসেননি।

রুহুল শেখের ভাষ্য, করাতকলের পাশে দাঁড়িয়ে গাঁজা খাওয়ার অপরাধে ভ্যানচালককে মারা হয়েছে। তবে একটু বেশি হয়ে গেছে। এ জন্য পুলিশ মামলা না দিয়ে পরিবারের কাছে দিয়ে দেয়। তার বাবা খুশি হয়ে তাঁকে টাকা দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন। ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তার নাম জানাতে পারেননি তিনি। উপজেলা বিএনপির এক নেতার ভাষ্য, রুহুল শেখ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যের লোক। এখন উপজেলা বিএনপির এক নেতার ছত্রছায়ায় নানা বিশৃঙ্খলা করছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। 

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন খানের ভাষ্য, তিনি রুহুলকে চেনেন। ভ্যানচালককে পিটিয়ে সে অন্যায়ই করেছে। ঘটনাটি দুঃখজনক। খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন এমন কোনো ঘটনার তথ্য জানেন না। লিখিত অভিযোগ বিষয়ে জানানো হলে বলেন, খোঁজ নিয়ে জানাব।