অবৈধ ইটভাটা বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভাটা মালিক সমিতির সিন্ডিকেট - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অবৈধ ইটভাটা বাঁচাতে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভাটা মালিক সমিতির সিন্ডিকেট

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ৯, ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার ছড়াছড়ি। জেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে জেলা জুড়ে বছরের পর বছর চলছে অবৈধ এসব ইটভাটার দৌরত্ম্য। আর এসব অবৈধ ইটভাটা বাঁচাতে গড়ে উঠেছে কথিত ইটভাটা মালিক সমিতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীদের নেতৃত্বে যৌথ শক্তিশালী সক্রিয় সিন্ডিকেট। সরকারী নীতিমালা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। এতে বনজ সম্পদ উজাড়ের পাশাপাশি কৃষিজমি নষ্ট, ফসলহানি ও পরিবেশগত মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।

এদিকে যৌথ সিন্ডিকেটের এজেন্ডা বাস্তবায়নকল্পে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা নিয়ে লোক দেখানো আই ওয়াশের অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইটভাটা মালিক সমিতির মধ্যে চলছে চোর পুলিশ খেলা। একদিকে অবৈধ ইটভাটা মালিকেরা অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ইটভাটা রক্ষা করতে ব্যস্ত। অন্যদিকে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অবৈধ অর্থ দেলদেনের মাধ্যমে ভাটা মালিকদের পছন্দ মত ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত নামকোয়াস্তে কুমারখালীর চরসাদিপুর ও কুষ্টিয়া সদরে দুটি অভিযান পরিচালনা করেছে পরিবশে অধিদপ্তর কুষ্টিয়া। সেসব অভিযান নিয়েও রয়েছে নানান প্রশ্ন। ইতোমধ্যে অবৈধ অর্থের মাধ্যমে অবৈধ ইটভাটা রক্ষা করতে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইটভাটা মালিকদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের তৎপরতা সবার নজরে এসছে।

সেই সিন্ডকেটে রয়েছে ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী, ভেড়ামারার ইটভাটা মালিক জিয়া, ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সভপতি ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ও জামায়েত ইসলামীর মনোনীত কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি প্রার্থী আব্দুল গফুরের ভাই এনামুল হাজী। সিন্ডিকেটের অন্যদিকে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। সিন্ডিকেটভুক্ত কথিত ইটভাটা মালিক সমিতির ওইসব নেতারা বছর বছর ইট তৈরির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বিপুল পরিমান অর্থের বিনিময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে প্রকার বীর দর্পে চলিয়ে যাচ্ছে অবৈধ এসব ইটভাটা। জানতে চাইলে ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী বলেন, প্রথম প্রথম আমরা অভিযানে একটু বাধা দিয়েছিলাম। এরপর সেনাবাহিনী আমাদেরকে বলেছে আপনারা সরকারী কাজে বাঁধা দিয়েন না। আপনারা যার যার বাড়ীতে চলে যান।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সভপতি ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বলেন, আমাকে প্রশাসনের কোন জায়গায় দেখেছেন দৌঁড় ঝাপ করছি? এটা মিথ্যা অভিযোগ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ জেলায় কর্মরত পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সিনিয়র কেমিস্ট মো.হাবিবুল বাশার বলেন, আমি কি চাইলে যেখানে অভিযান করতে পারি। যদি কোন সলিড ডকুমেন্ট থাকে তাহলে ডকুমেন্ট নিয়ে আপনি আমার সাথে কথা বলেন।

আশা করি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি। জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপ-পরিচালক মো.এমদাদুল হক বলেন, আসলে এই বিষয়ে আমি কি বলব। এরপর যখন মোবাইল কোর্ট হবে তখন দেখবেন আমরা কিভাবে কাজ করি। আমরা যেখানে যায় সেখানে এক সাইড থেকে মোবাইল কোর্ট শুরু করি। এরপর ব্যস্ততা দেখিয়ে তিন পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় ২১৩টি ইটভাটার মধ্যে অনুমোদিত মাত্র ১৭টি। অন্য ১৯৬টি চলছে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া ও লাইসেন্সবিহীন।

বৈধ ১৭টি ইটভাটর মধ্যে ভেড়ামারা উপজেলায় ৩টি, দৌলতপুরে ১টি, কুমারখালী উপজেলায় ৯টি এবং খোকসা উপজেলায় ৪টি ইটভাটা রয়েছে। যার মধ্যে ২টি অটো ব্রিকস এবং বাকী ১৫টি জিগ-জ্যাগ। কুষ্টিয়া সদর এবং মিরপুর উপজেলায় নেই কোন বৈধ ইটভাটা। অবৈধ ১৯৬টি ইটভাটার মধ্যে ১টি অটো, ৪২টি জিগ-জ্যাগ, ২৯টি ড্রাম চিমনি এবং ১২৪টি উচ্চতর পাকা ফিক্সড্ চিমনি। এছাড়াও অবৈধ ১৯৬টি ইটভাটার মধ্যে ২১টি ইটভাটার মালিক হাইকোর্টে রিট করার কারণে ওই রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর ওই সকল ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে না বলে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র নিশ্চিত করেছে।