বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় কুষ্টিয়ার পৃথক স্থানে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর ২০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল বারিক ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম। এদিকে বাদ আসর বিকেল ৪টার সময় কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বটতৈল মোড়ে ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেন মুরাদ ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা ছিলেন, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক শওকত হাসান বুলবুল, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মহি উদ্দিন চৌধুরী মিলন কাউন্সিলর ও অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন।
জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আল আমিন রানা কানাই, জেলা বিএনপি সদস্য আব্দুল মঈদ বাবুল ও আবু তালেব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল হাকিম মাসুদ, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন, সদর উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল মাজেদ, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল আওয়াল বাদশা, সদর উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রেখা পারভীন ও পৌর শাখার সুলতানা আফরিদী শিল্পী, সদর উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী নাজনীন আক্তার ও মল্লিকা সহ দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেয়। এছাড়া সদর উপজেলা বিএনপির দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপি সদস্য শহিদুজ্জামান খোকন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন প্রধান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক মুন্সী নজরুল ইসলাম, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু ও আলমগীর হোসেন প্রমূখ।
এছাড়া ১৩ টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের কয়েকশো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এসময় সার্বিক কাজে সহযোগিতা করেন, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান মেম্বর ও সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আনিচসহ দলীয় নেতাকর্মী। অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম জাহাঙ্গীর আলম। এসময় কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপার্সন অসুস্থ, সারাজাতি গভীরভাবে চিন্তিত, ব্যথিত। আমাদের যে শক্তি, অন্তনিহীত শক্তির বলেই, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দল এই ভূখণ্ডে টিকে আছে। আল্লাহ তায়ালার পরে আমরা একটি শক্তি অর্জন করি দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করা।
তাকে স্মরন করলে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শক্তি অর্জন হয়। উনি শাহাদাৎবরণ করার পরে এই দলের প্রেরণার উৎস বেগম খালেদা জিয়া। আমরা যাকে প্রতীক হিসেবে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়, তিনি হলেন বেগম খালেদা জিয়া। আজকে সারাজাতি তারা তাদের উদ্বেগের কথা জানাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, যেহেতু আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এই নির্বাচনের আগে মহান রাব্বুল আলামিন যেনো আমাদের দেশনেত্রীকে সুস্থতা দান করেন। আগামী নির্বাচনে আমাদের মাঝে তাকে প্রয়োজন। এবারের নির্বাচন হবে জনগণের ভোটের নির্বাচন। এই নির্বাচনে বিএনপি ছাড়া অন্য দলের ক্ষমতায় আসার সুযোগ নেই। কারন যারা দেশের বিরোধীতা করেছিলো তাদেরকে জনগণ মেনে নিবে না। যাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নেই তারা ভেঙে পড়া দেশকে পুনর্গঠন করার সক্ষমতা রাখে না।
এই কথাটি বিশ্বাস করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিতে হবে, আমাদের প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারকে বিজয়ী করতে হবে। আপনারা ধানের শীষকে বিজয়ী করলে আমাদের দলের প্রতি সু বিচার করা হবে। এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আপনারা জানেন ১৮ কোটি জনগণের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বর অসুস্থ। ঢাকার একটি হসপিটালে আমাদের নেত্রীর চিকিৎসা চলছে, উনার এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী সকল প্রচার স্থগিত করে, তার সুস্থতায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে না আসা পর্যন্ত বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় সদকা দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে জেলা বিএনপির উদ্যোগে মাদ্রাসার এতিমদের জন্য সদকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি মানুষ তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন। আমরা সকলে জানি আল্লাহ সর্বশক্তিমান, জন্ম মানেই মৃত্যু, কিন্তু আল্লাহর কাছে দু হাত তুলে ফরিয়াদ করি এ যাত্রায় দেশনেত্রীকে সুস্থ করে দিন। কারন আপনারা জানেন, বিগত ১৭ বছর আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে একটি নতুন দেশ পেয়েছি। বিগত সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ সরকার আমাদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। আমাদের চাওয়া পাওয়া ছিলো দেশে গনতন্ত্র ফিরে আসুক।
আমাদের নেত্রী দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তিনি যতবার রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন কারো সাথে আপোষ করেন নাই। তাই এই আপোষহীন নেত্রীর সুস্থতা জরুরি। তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী, সন্তানকে হারিয়েছেন, তার উপর ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ অত্যাচার করা সত্বেও দেশের জনগণকে ছেড়ে কখনো পালিয়ে যাননি। সেই নেত্রী আজ গুরুত্বর অসুস্থ। গতকাল ঢাকাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম, খোঁজ নিয়েছি, আগের থেকে কিছুটা ভালো আছেন। তার সুস্থতায় সারাদেশে দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে, ১৮ কোটি মানুষের আর্তনাতে আল্লাহ চাইলে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিবেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের একজন জনপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী নেত্রী। তাঁর সুস্থতা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
