বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শিক্ষক জাল সনদে চাকুরীর তথ্য বিভিন্ন সময়ে জাতীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও সেই বিষয়ে উল্লেখ যোগ্য কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে দেখা যায়নি দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর গুলোকে। এদিকে সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাল সনদের ছড়াছড়িতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, কুষ্টিয়া ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা জাল সনদে কর্মরত রয়েছে।
অথচ জাল সনদের বিষয়ে জেলা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস গুলোকে সব সময়ই নিরব ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। স্থানীয় ভাবে প্রাপ্ত তথ্য এবং স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের উপর ভিত্তি করে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) বরাবর ২০২১ সালের ২২ শে জুন থেকে ২০২৪ সালে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ঐ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন যাচাই বাচাই করতে আবেদন করেন। এর মধ্যে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ একাধিকবার আবেদন করেছে বলেও এনটিআরসিএ’র ওয়েব সাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়।
নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য কুষ্টিয়া সদর উপজেলা থেকে আবেদন করে মনোয়ারা আজমত আলী কলেজ, বেগম হামিদা সিদ্দিক কলেজিয়েট স্কুল, আইলচারা মহাবিদ্যালয়, কুষ্টিয়া সদর, কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ, কুওয়াতুল ইসলাম কামিল মাদরাসা, খাতের আলী দাখিল মাদরাসা, হরিনারায়ণপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা এবং আড়পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য মিরপুর উপজেলা থেকে আবেদন করে বলিদাপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (ভোকেশনাল), বলিদাপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, মীর আব্দুল করিম কলেজ, চিথলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হালসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আমলাসদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং নওদা আজমপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ।
নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য কুমারখালী উপজেলা থেকে আবেদন করে আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কুমারখালী মথুরানাথ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য ভেড়ামারা উপজেলা থেকে আবেদন করে ভেড়ামারা আদর্শ (ডিগ্রী) কলেজ, জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য খোকসা উপজেলা থেকে আবেদন করে আমলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ধোকড়াকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শোমসপুর আবুতালেব ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ। নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছইয়ের জন্য দৌলতপুর উপজেলা থেকে আবেদন করে খাস মথুরাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আহসান নগর কারিগরি এবং ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ, খলিসাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ ও খলিসাকুন্ডি ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
যদিও আবেদন করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণকে নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন পত্র যাচাই বাছই শেষে ফলাফল জনসন্মুখে প্রকাশ করতে দেখা যায়নি। সেই কারণে প্রকৃত সত্য কতটুকু প্রকাশ পাই তা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে রয়েছে সংশয়। তবে কুষ্টিয়া বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের দাবী প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধাণগনের উচিৎ স্বপ্রণোদিত বিদ্যালয়ে কর্মরত সকল শিক্ষক শিক্ষিকার সনদ যাচাই বাছাই করা। জাল সনদের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. ইউনুস আলী বলেন, বর্তমানে নিয়োগের সময়ই এনটিআরসিএ সনদ যাচাই বাছাই করা হয়। আর আগের গুলো এমপিও ভুক্ত হওয়ার সময় যাচাই-বাছাই করা হয়। তাছাড়া উপর থেকে আদেশ বা নির্দেশ পেলেই আমরা সনদ যাচাই-বাছাই করি। স্পপ্রণোদিত হয়ে কখনও যাচাই-বাছাই করা হয় না।
