অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষক নিয়োগে কোটি টাকার বাণিজ্য

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ২৪, ২০২৫

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যাক ডেটে দেখিয়ে সাত শিক্ষক নিয়োগ এবং কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষা অধিদপ্তর জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর তদন্তের জন্য লিখিত নির্দেশ জারি করেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২২ নভেম্বর প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী জানান, আমি গত সাত দিন ধরে ছুটিতে আছি। শুনেছি আমাদের অফিসে তদন্তের নির্দেশ এসেছে। তবে চিঠিটি এখনো আমার হাতে আসেনি। কাল (গতকাল রোববার) অফিসে গিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

এর আগে সংবাদ প্রকাশের পূর্বে সংবাদকর্মীরা অঞ্জনগাছি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক, অভিযুক্ত শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি এলাকাবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার, নথি বিশ্লেষণ এবং ব্যানবেইজ তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়— বিদ্যালয়টিতে প্রকৃতপক্ষে ব্যাক ডেটে নিয়োগ প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। ব্যানবেইজে নামহীন ৭ শিক্ষক, তবুও দেখানো হয়েছে পুরোনো নিয়োগ তারিখ। ২০২২ সালের ব্যানবেইজ জরিপ অনুযায়ী-ভারতী রানী বিশ্বাস, মাহবুবুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, মহিবুল হক, আব্দুস সালাম, রওশন আরা ও সেলিনা আক্তার এই সাতজনের নাম সরকারি ডাটাবেসে অনুপস্থিত ছিল। ভারতী রানী বিশ্বাস, জাহাঙ্গীর আলম, মহিবুল হক ও আব্দুস সালামের নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০০৫ সালে। কিন্তু ২০১৩-২০২১ পর্যন্ত ব্যানবেইজে তাদের নাম নেই।

২০১৪ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করা মাহবুবুর রহমান, রওশন আরা ও সেলিনা আক্তারের নামও ডাটাবেসে অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক আব্দুল কালাম আজাদ ২০২২ সালে আদালতে বিষয়টি নিয়ে প্রথম মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে— যাদের নাম কখনো ব্যানবেইজে ছিল না, তারা কীভাবে ব্যাক ডেটে নিয়োগ পেয়ে দীর্ঘদিন বেতন নিলেন? আমাকে চাকরিচ্যুত করা ও এই অবৈধ নিয়োগ একই সিন্ডিকেটের অংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা যা খুশি তাই করেছেন।

আব্দুল কালাম আজাদ আরও জানান-অভিযুক্ত শিক্ষকরা যেসব পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেখিয়ে নিয়োগ প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, সেসব পত্রিকার উল্লেখিত সংখ্যার অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি। ২০১৪ সালের ৩ জানুয়ারি তারিখের দৈনিক বজ্রপাত পত্রিকার সংখ্যা যাচাই করে দেখা গেছে-সেখানে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই, অথচ ওই তারিখ ও পত্রিকার নামই আবেদনপত্রে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর বিদ্যালয়ে চলমান অনিয়ম, ব্যাক-ডেট নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পুরো চিত্র সামনে আসবে।