নিজ সংবাদ ॥ ভেড়ামারা হালিমা বেগম একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম’র বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম। মো. সিরাজুল ইসলাম তার লিখিত বক্তব্যে কোন কোন খাত থেকে প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম অর্থ আত্নসাৎ করেছেন তা তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান বিগত দিন গুলোতে উপবৃত্তির টিউশনীর ফির অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি। উপবৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্রদের নিকট থেকে মাসিক বেতন নেওয়া হয়। ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ৯ম শ্রেণির রেজিঃ ফি বাবদ ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি। ছাড়পত্র বাবদ ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে আদায়কৃত অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির জন্য জরিমানা বাবদ আদায়কৃত অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি।
২০২৪ সালে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফি/পুনঃ ভর্তি ফি একই রশিদে বামপাশে ৯’শ টাকা ও ডান পাশে এক হাজার দেখিয়ে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রদান করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। এসএসসি পাশ ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট থেকে প্রশংসা পত্র ও সার্টিফিকেট বাবদ আদায়কৃত অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি। বিদ্যালয়ের পরীক্ষার খাতা ও পুরাতন কাগজ বিক্রয়ের অর্থ ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি। করোনা কালিন সময়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত টাকা বোর্ড কর্তৃক ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। এফডিআর এর লভ্যাংশ টাকা ক্যাশবুকে উঠানো হয়নি।
প্রতিদিনের আয় ব্যাংকের সাথে লেনদেন করে খরচ করা হয়নি। একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে ভোকেশনাল শাখা থেকেও তিনি মাসিক বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। দূর্ণীতি করে ভেড়ামারা শহরে বিলাশ বহুল বাড়ি, জমা- জমি ক্রয়সহ বিভিন্ন ধরনের সম্পদ গড়েছেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শিক্ষক- কর্মচারীদের সাথে বিগত পনের বছর অমানবিক আচরণ করেছেন। বিগত পনের বছরে প্রায় কোটি টাকার উপরে বিদ্যালয় থেকে আত্মসাৎ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিগত সরকারের সময় এক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে হাত মিলায়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোটি টাকা আত্নসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম। দূর্ণীতির সেই টাকা দিয়ে তিনি ভেড়ামারা কাচারীপাড়ায় মহিলা কলেজের সামনে বিশাল বহুতল অট্টালিক নির্মান করেছে। জানা যায়, কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত হালিমা বেগম একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বিদ্যালয়ের নানাবিধ আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকায় তাহার বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ এনে এবছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীর পক্ষে সহকারী প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার পাল আবেদন করেন। যার প্রেক্ষিতে এ বছরের ৩রা মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম দুর্নীতির তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। মিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ২৭ই মার্চ ২০২৪ ইং তারিখে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। উক্ত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষ করে ২৪ এপ্রিল ২০২৪ ইং তারিখে যশোর বোর্ডে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলে। যার প্রেক্ষিতে যশোর বোর্ড কর্তৃপক্ষ ২৭ই আগস্ট ২০২৪ ইং তারিখে সভাপতি/উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন। যার ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আদেশক্রমে ৩রা সেপ্টেম্বর ২০২৪ই তারিখে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার পাল বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভা আহবান করেন। পরিচালনা পর্ষদের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলামকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর কোন এক আজানা কারণে তাকে শোকজ করা হয়নি। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে মো. শফিকুল ইসলাম ভেড়ামারা হইতে মেহেরপুর বদলী হয়ে চলে যায়।
