কুমারখালী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ২০২১ সালে গঠিত ছয়মাস মেয়াদি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। গেল তিন বছরও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি। গত ৫ আগষ্টের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের কার্যক্রম ছিলো শুধুই ঘরবন্দি। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজপথে বিভিন্ন কার্যক্রমে দেখা গেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের। তবে আধিপত্য বিস্তার ও বড় বড় পদ-পদবীর প্রত্যাশায় সেসব কার্যক্রমও ছিল কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত। এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ এবং দলীয় কার্যক্রম বেগবান করতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা বিএনপি। কিন্তু কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব এই দুই বড় পদের বিপরীতে ৮ নেতা দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে জানা গেছে।

নেতাকর্মীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতাকর্মীরা। রাজপথে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। তবুও আসন্ন সংসদ নির্বাচন, আধিপত্য বিস্তার ও দলের পদ প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে দ্বিধাদ্বন্দ্বে কয়েকটি খণ্ডে বিভক্ত বিএনপির নেতাকর্মীরা উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় কিছুটা গ্রুপিং আছে। তবে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নতুন কমিটি করা হবে। জানা গেছে, কুষ্টিয়া ৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক পেতে মরুয়া দুই বারের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী ও নুরুল ইসলাম আনসার প্রমানিক,

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম মহম্মদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন। এতে কুমারখালীতে পঞ্চমুখ বিএনপির বাড়ছে দলীয় ক্রোন্দল। তারা আধিপত্য বিস্তারে বিভিন্ন খণ্ডে বিভক্ত হয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ ও তোরজোড় লবিং চালাচ্ছেন তিন জ্যেষ্ঠ নেতা। তারা হলেন-জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট গোলাম মহম্মদ এবং উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক মো. লুৎফর রহমান। আর সদস্য সচিব পদে দৌড়ঝাঁপ করছেন জেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য খন্দকার মোস্তাফিজুর তুহিন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পান্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কে আলম টমে,  জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সাবেক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী,

চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা পলাশ হোসেন। অভিযোগ উঠেছে, পদ প্রত্যাশীদের বিরুদ্ধে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ২০১৯ সালে সদকী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন লুৎফর রহমান এবং পান্টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন হাফিজুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় তেমন কোনো বিধিনিষেধ ছিলোনা বলে জানান উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলকে সুসংগঠন করতে কাজ করেছি। সেজন্য আগামী কমিটিতে তাকে পুনরায় আহবায়ক করা হবে বলে প্রত্যাশা তার। তার ভাষ্য, নতুন কমিটিতে তিনিসহ নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক ও গোলাম মহাম্মদ আহবায়ক হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান বলেন, বিরোধীদলের হত্যাচার সহ্য করে দীর্ঘদিনের দলের কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। সেজন্য ১৩ টি রাজনৈতিক মামলাও হয়েছে। তার ভাষ্য, তিনিসহ তুহিন, টমে, নওয়াব ও পলাশ সদস্য সচিব পদ প্রত্যাশী। জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন যে সমস্ত নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার জুমুল হত্যাচার, হামলা মামলার শিকার হয়েছে। দলীয় নীতি আদর্শ মেনে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছে। তাদেরকে নতুন কমিটিতে মূল্যায়নের দাবি তার। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে অন্তত ১৮ টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছি। কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই বাছাই করে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গুলো গঠন করা হবে জানান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির সরকার।