নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রশাসনের নিকট ইবি ছাত্রশিবিরের ১১০ প্রস্তাবনা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে প্রশাসনের নিকট ইবি ছাত্রশিবিরের ১১০ প্রস্তাবনা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জুলাই বিপ্লবোত্তর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংস্কারে শতাধিক প্রস্তাবনা দিয়েছে শাখা ছাত্রশিবির। গতকাল শনিবার (৩০ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টায় উপাচার্যের কাছে লিখিত প্রস্তাবনা দেয় সংগঠনটি। পরে দুপুর দেড়টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করেন শিবির নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি এইচ এম আবু মুসা, সেক্রেটারি মাহমুদুল হাসান ও দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ আলী। প্রেস ব্রিফিংয়ে ২৪টি ক্যাটাগরিতে মোট ১১০ টি দাবি তুলে ধরেন শিবির নেতারা। তাদের দাবিগুলো হলো-আওয়ামী দুঃশাসনে অনিয়মের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ সংক্রান্ত-১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো, তাদেরকে চিহ্নিত করে অতিদ্রুত একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২. ২০১২ সালে গুমের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী শিক্ষার্থী ওয়ালিউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসের সন্ধান পেতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ ও গুমের সাথে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

৩. স্বৈরশাসনামলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী ও তাদের দোসরদেরকে চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নির্যাতিত শিক্ষার্থীদেরকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব-নিকাব ইস্যুতে ছাত্রীদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণসহ ইসলামবিদ্বেষী কার্যক্রমে জড়িতদেরকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ৫. বিগত ১৬ বছরে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ৬. বিগত সময়ে হলগুলোতে মাদক, অস্ত্র ও সিট বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ ও তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৭. বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল দুর্নীতির তথ্য শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করতে হবে। বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন-৮. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব স্থাপনা ও ফলক ফ্যাসিবাদের আইকনদের নামে নামকরণ করা হয়েছে তা অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে। ৯. নির্মাণাধীন হলগুলোর নামকরণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যশীল মনীষীদের নামে অথবা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের নামে নামকরণ করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণ-১০. নন-ক্রেডিট বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্সকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করে কোর্স কন্টেন্ট হিসেবে জুলাই বিপ্লবের পটভূমি ও ইতিহাস পাঠযুক্ত করতে হবে। ১১. জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্মরণীয় করে রাখতে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একটি কর্নার ও সংগ্রহশালা গড়ে তুলতে হবে। ১২. জুলাই বিপ্লব নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বড় পর্দায় প্রদর্শনীর আয়োজন করতে হবে।

১৩. জুলাই বিপ্লব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে গবেষণাপত্র প্রকাশের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ-১৪. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য থানা গেইটে প্রতিষ্ঠা প্রঙ্কর ঘিরে দৃষ্টিনন্দন ইবি মিউজিয়াম গড়ে তুলতে হবে। যেখানে ট্যুরিস্টদের জন্য একটি ছোট মসজিদ থাকবে। মিউজিয়াম এরিয়ায় ইবির ঐতিহাসিক বস্তুসমূহ (যেমন: পুরনো গাড়ি, তৈজসপত্র প্রভৃতি) সংরক্ষণ করতে হবে। আবাসিক হল সংক্রান্ত-১৫. ক্যাম্পাসে শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিতকল্পে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ১৬. হল পরিচালনা ও সিট কটনসহ যাবতীয় কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে “প্রতি হলে আবাসন, নিশ্চিত করবে প্রশাসন” এই স্লোগানকে কার্যকর করতে হবে। ১৭. ডোপ টেস্ট করে শিক্ষার্থীদের হলে আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। ১৮. শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিককরণ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত মেধা, অর্থনৈতিক অবস্থা ও দূরত্বের বিবেচনায় হলে সিট বণ্টন করতে হবে। ১৯. বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করে গণরুম-গেস্টরুম কালচার চিরতরে বিলুপ্ত করতে হবে। ২০. হল প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের ক্যাম্পাসে অবস্থান ও নিয়মিত অফিসে যোগদান নিশ্চিত করতে হবে। ২১. আবাসিক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে রিডিং রুম, লাইব্রেরির পরিসর বৃদ্ধি ও পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

২২. হলের রুম, ডাইনিং রুম ও ওয়াশরুম সংস্কারের প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২৩. হলে ইন্টারনেট সেবা ও খাবারের মান উন্নতকরণ এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। ২৪. প্রতি হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে। বিভাগ, অনুষদ ও একাডেমিক কার্যক্রম-২৫. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংবিধিতে অন্তর্ভুক্ত ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অনুষদ অনতিবিলম্বে খুলতে হবে। পাশাপাশি কৃষি অনুষদ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য অনুষদসমূহে যুগোপযোগী বিভাগ চালু করতে হবে। ২৬. প্রত্যেক বিভাগে নন-ক্রেডিট ইসলামিক স্টাডিজ কোর্সকে ক্রেডিট কোর্সে এপান্তর ও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য মৌলিক ইসলাম শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্ব-স্ব ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ২৭. বিভাগসমূহে প্রয়োজনের আলোকে পর্যাপ্ত যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে এবং সব শিক্ষককে রুটিন অনুযায়ী নিয়মিত ক্লাসে যোগদান বাধ্যতামূলক করতে হবে। ২৮. শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষকদের মূল্যায়নের ব্যবস্থা ও সেরা শিক্ষকের জন্য বেস্ট টিচার অ্যাওয়ার্ড প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৯. সব বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ক্লাসরুম বরাদ্দ দিতে হবে।   ৩০.সেশনজট নিরসনে একাডেমিক ক্যালেন্ডার বাধ্যতামূলক অনুসরণ করতে হবে। করতে হবে। ৩১. সব বিভাগে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু করতে হবে এবং ক্লাস চলাকালীন দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত নামায ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতি কার্যকর করতে হবে। ৩২. পরীক্ষার অন্তত ৭ (সাত) দিন আগে টিউটোরিজল ও ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর নোটিশ বোর্ডে ঝুলিয়ে দিতে হবে। ৩৩. সব বিভাগে মাল্টিমিডিয়া ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম, ডিজিটালাইজড ল্যাব, উন্নতমানের ইন্টারনেট সেবা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। ৩৪. সব বিভাগে ছাত্রীদের জন্য কমনরুম ও নামাজের জন্য রুম বরাদ্দ দিতে হবে।

৩৫. সেশন ভিত্তিক মেধাবৃত্তির সংখ্যা ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে এবং স্বৈরশাসনামলে লাগামহীনভাবে বর্ণিত বিভিন্ন ফি কমিয়ে যৌক্তিক কি নির্ধারণ করতে হবে। ৩৬. শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ ও মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস-৩৭. প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। ৩৮. মাদকবিরোধী সেল গঠন করে অভিযান চালিয়ে ক্যাম্পাসকে সব ধরনের মাদক মুক্ত করতে হবে। ৩৯. ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে প্রক্টরিয়াল টিমের অভিযান চলমান রাখতে হবে। ৪০. র‌্যাগিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ৪১. ক্যাম্পাসের সব রপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে লাইটিং ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার-৪২. শিক্ষার্থীদের চাহিদার আলোকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে প্রয়োজনীয় বই, সাময়িকী, জানাল, গবেষণাপত্র, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও ডিজিটাল রিসোর্স নিশ্চিত করতে হবে। ৪৩. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বই ইস্যু-বিতরণ পদ্ধতির জটিলতা নিরসন ও নিজস্ব এই নিয়ে অধ্যয়নের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪৪. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে জব এইড কর্নার কর্নার চালু করতে হবে। যেখানে সব ধরনের চাকুরীর প্রস্তুতিমূলক বইয়ের সরবরাহ থাকবে। ৪৫. কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার সপ্তাহে সাতদিন সকাল ৭ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে। ৪১. বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনলাইন লাইব্রেরি চালু করতে হবে। ধর্মীয় উপাসনালয়-

৪৭. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের আধুনিকায়ন ও নির্মাণ কাজ স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। ৪৯ . ছাত্রী হলগুলোতে নামাজের জায়গা উন্নত করতে হবে। ৪৮. ক্যাম্পাসের সব মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ৫০. ক্যাম্পাসে সব ধর্মের অনুসারীদের উপাসনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা সেবা-৫১. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের সামগ্রিক আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল নিয়োগ ও একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্রে উন্নত করতে হবে। ৫২. বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। ৫৩. চিকিৎসা কেন্দ্রে ওয়ার্ড ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এবং নার্স নিশ্চিত করতে হবে। ৫৪. চিকিৎসা কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ওষুধ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে। ৫৫. হলভিত্তিক চিকিৎসা সহকারী নিয়োগ দিতে হবে। ৫৬. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের এ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা ও সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। ছাত্র সংসদ-৫৭. অতিদ্রুত আইন প্রণয়ন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ইকসু) প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনের দৃশ্যমান ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম

৫৮. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করতে হবে। ৫৯. বিভিন্ন আবেদন, টাকা জমা, ভর্তি প্রক্রিয়া ও সনদ উত্তোলন সহজ করতে প্রশাসনিক সব স্তরে অনলাইনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৬০. অফিস চলাকালীন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ৬১. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব শিক্ষার্থীর জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করতে হবে। ৬২. সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটালাইজড করতে আইটি সেলের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। ৬৩. শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহে হয়রানি প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ভিসি নিয়ন্ত্রিত কন্ট্রোলরুমে ফুটেজ সংরক্ষণ ও মনিটরিং-এর ব্যবস্থা করতে হবে। গবেষণা-৬৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগসমূহে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও তা প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে। ৬৫. উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে সিলেবাসে গবেষণা অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। সব বিভাগে মানসম্মত ইংরেজি শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ৬৬. গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহী করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।

৬৭. বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধাসহ গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ৬৮. মাস্টার্সের সব শিক্ষার্থীর জন্য থিসিস বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৬৯. বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে একটি রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে হবে- যেখানে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রফেশনাল ট্রেইনারদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদেরকে গবেষণায় আগ্রহী করতে রিসার্চ সেন্টার এর উদ্যোগে রিসার্চ ফেয়ার এর আয়োজন করতে হবে। ৭০. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ল্যাব এর প্রয়োজনীয় তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি স্থাপন করতে হবে। পরিবহন-৭১. শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুষ্টিয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ক্যাম্পাসকে অন্তর্ভুক্ত করে ঝিনাইদহের কোটচাদপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। ৭২. পরিবহন বিভাগের জন্য একটি স্থায়ী এ্যাপ তৈরি করতে হবে। ৭৩. শিক্ষার্থীদের জন্য যানবাহন বাড়াতে হবে এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোর মেরামত নিশ্চিত করতে হবে।

৭৪. বহিরাগতদের বাসে উঠতে না দেয়ার ব্যাপারে কঠোর নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা-৭৫. গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে গ্রহণ করতে হবে। ৭৬. ভর্তি কার্যক্রমের জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন খাতে ফি প্রদান ও ভর্তি সংশ্লিষ্ট তথ্য পূরণের কাজ অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে এবং ভর্তির সময় বিভিন্ন অফিসের স্বাক্ষর জটিলতা নিরসন করতে হবে। ৭৭. বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। আইআইইআর-৭৮. আইআইইআর-এ নীতি ও আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। ৭৯. ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে আইআইইআর কর্তৃক যথাযথ পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। ৮০.আইআইইআর এর উদ্যোগে বেসিক ইসলাম ও কুরআন শিক্ষার বিভিন্ন কোর্সের আয়োজন করতে হবে। ৮১. বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর দক্ষতা নিশ্চিত করতে নামমাত্র কোর্স ফিতে আইটি, ফরেইন ল্যাংগুয়েজ (ইংরেজি, আরবি, চাইনিজ,জাপানিজ, কোরিয়ান ও অন্যান্য) ও বেসিক রিসার্চ প্রভৃতি কোর্স চালু করতে হবে। মরণব্যাধি নিরাময় তহবিল ও ছাত্রকল্যাণ ফান্ড-

৮২. মরণব্যাধী নিরাময় তহবিল ও ছাত্রকল্যাণ ফান্ড সমৃদ্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ৮৩. পদ্ধতি জটিলতা মুক্ত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে হবে। গ্রিন ক্যাম্পাস, ক্লিন ক্যাম্পাস-৮৪. ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নিশ্চিতকরণ ও পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে সুষ্ঠু বণ্ডা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ৮৫. ক্যাম্পাসে মনোরম পরিবেশ ও স্বাস্থ্য-সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গ্রিন ক্যাম্পাস, ক্লিন ক্যাম্পাস স্লোগানকে ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং তা পরিচর্যার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৮৬. ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনার দিয়ে ডিজাইন করিয়ে পুরো ক্যাম্পাসকে সাজাতে হবে। ৮৭. ক্যাম্পাসে সব দুর্লভ উদ্ভিদের চারা রোপণ করতে হবে। ৮৮. ক্যাম্পাসকে একটি শিক্ষামূলক ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিন-৮৯. বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে হবে এবং ক্যাফেটেরিয়ার পুরাতন ও অস্বাস্থ্যকর সরঞ্জামাদি পরিবর্তন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৯০. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্যান্টিন ও ক্যাফেটেরিয়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে খাবারের গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। মননশীল সাংস্কৃতিক চর্চা-৯১. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য টিএসসিসিতে রুম বরাদ্দসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৯২. ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য “ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র” গঠন করতে হবে। ৯৩. টিএসসিসির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ৯৪. জমি অধিগ্রহণ করে মানসম্মত স্টেডিয়াম তৈরী করতে হবে। ক্রীড়া ও শরীরচর্চা-৯৫. ক্যাম্পাসে একটি সুইমিং পুল তৈরী করতে হবে। ৯৬. পুকুর সংস্কার করে গোসল ও সাঁতারের উপযোগী করতে হবে। ৯৭. খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ও দর্শকদের খেলা উপভোগ করার জন্য ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠের পাশে গ্যালারী নির্মাণ করতে হবে। ৯৮. খেলার মাঠ সমূহ ও জিমনেশিয়ামের প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে।

৯৯. ছুটির দিনেও জিমনেশিয়াম খোলা রাখা ও পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত-১০০. বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ কার্যক্রম রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। ১০১. বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অর্থজাতিক মান নিশ্চিত করতে হবে। ১০২, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকসহ সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন-১০৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুপার্শ্বস্থ প্রাচীর সংস্কার করতে হবে। ১০৪. ইবি লেক ও বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন পুকুরপাড় সংস্কার, সারা বছর পানির ব্যবস্থা, লাইটিং নিশ্চিত এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে হবে। ১০৫. ক্যাম্পাসে চলমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। ১০৬. ক্যাম্পাসের পরিধি বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন অঞ্চলের ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে।১০৭. নিরাপদ রাস্তা পারাপারের জন্য মেইনগেটে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিবিধ সংক্রান্ত দাবির মধ্যে রয়েছে-১০৮. ইবি থানা ঝাউদিয়াতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। ১০৯. বঙ্গবন্ধু হলের পুলিশ ফাঁড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচতলায় স্থানান্তর করতে হবে। ১১০. ফ্যাসিজমের স্টেকহোল্ডার ব্যাতিত ক্যাম্পাসের সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকসহ সকল সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দাবি উপস্থাপন করে ইবি শাখা শিবির সভাপতি বলেন, জুলাই বিপ্লবে মহান শহিদদের আত্মদান ও মূল্যবোধকে ধারণ করে নিরাপদ, আধুনিক ও নৈরাজ্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে উপযুক্ত সংস্কার প্রস্তাবনা প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ক্যাম্পাস সংস্কার এবং ক্যাম্পাসের বাস্তবিক সমস্যাগুলো সনাক্ত করতে আমরা গবেষণা টিম করেছিলাম। আমরা পর্যালোচনা করে দাবিগুলো উপস্থাপন করেছি এবং  উপাচার্যকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। দাবিগুলো বাস্তবায়নে আমাদের থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। আমরা চাই ক্যাম্পাস নতুন ভাবে সংস্কার করা হোক, ক্যাম্পাস শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠুক।