কুমারখালীতে সংঘর্ষ এড়াতে বিএনপির দু’পক্ষের সমাবেশ স্থগিত করল প্রশাসন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে সংঘর্ষ এড়াতে বিএনপির দু’পক্ষের সমাবেশ স্থগিত করল প্রশাসন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর বাস টার্মিনালে আগামী রোববার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় বিএনপির দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। দু’পক্ষই চালিয়ে যাচ্ছেন অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। ইতিমধ্যে একটি শুরু করেছেন মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ। তবে একই স্থানে একই সময়ে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশে ব্যাপক সংঘর্ষের ধারণা করছেন স্থানীয়রা ও দলীয় নেতাকর্মীরা এবং প্রশাসন। এদিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে আগামী রোববার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল শুক্রবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ৪ টা ৫ মিনিটে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া ৪ ( কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির দলীয় মনোয়ন পেতে এবং আধিপত্য বিস্তারে অস্তত চারটি খণ্ডে বিভিক্ত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নেতাকর্মীরা।

মনোয়ন প্রত্যাশীরা হলেন-কুষ্টিয়া ৪ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা বিএনপির সাবেব সহ সভাপতি গোলাম মহম্মদ, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কুমারখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম আনছার প্রামাণিক ও এশিউর গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ সাদী। নিজেকে বিএনপির নেতা দাবি করলেও শেখ সাদীর নেই কোন দলীয় পদবী। তবে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়কসহ একাংশ রয়েছেন তাঁর সঙ্গে। আগামী রোববারের সমাবেশের আয়োজকরা জানান, যুবদলের ৪৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সকাল ১০ টায় পৌর বাস টার্মিনালে আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন শেখ সাদীর সমর্থকরা।

এতে প্রধান থাকবেন শেখ সাদী। এ উপলক্ষ্যে চিঠি ছাপানো হয়েছে। মাইকিংয়ে প্রচার চলছে এবং মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে। এদিকে একই স্থানে একই সময়ে ঐক্য ও শান্তি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সাবেক এমপি মেহেদী রুমী সমর্থিতরা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সহ সম্পাদক আব্দুস সামাদ খান। তারাও চিঠি ছাপিয়েছেন। প্রচার মাইক বের করেছেন। তবে মঞ্চ তৈরির কার্যক্রম এখনও শুরু করেননি। বিকেল ৫ টার দিকে পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় সরেজমিন গিয়ে যায়, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কয়েকজন শ্রমিক একপক্ষের সমাবেশের মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছেন।

পৌর এলাকায় প্রচার মাইকিংও শোনা যায়। এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন, রোববার অনুষ্ঠান। সেজন্য সকাল থেকে তারা সাদী গ্রুপের মঞ্চ তৈরির কাজ করছেন। এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাদী গ্রুপের নেতা মো. লুৎফর রহমান বলেন, রোববার সমাবেশের জন্য তাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। কিন্তু অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পাল্টাপাল্টি অনুষ্ঠানের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু অনুষ্ঠান চালানোর জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। তাঁর ভাষ্য, শান্তির জন্য প্রয়োজন হলে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হতে পারে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের নির্যাতনের পরও দলীয় নেতাকর্মীরা চারটি খণ্ডে বিভিক্ত কেন? 

এমন প্রশ্নের উত্তরে লুৎফর রহমান বলেন, সবাই এমপি হতে চাই। ক্ষমতার লোভে সবাই বিভক্ত। জানতে চাইলে কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সহ সম্পাদক আব্দুস সামাদ খান বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের স্মরণর আগামী রোববার বাস টার্মিনাল এলাকায় ঐক্য, সম্প্রীতি ও শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাতে প্রতিপক্ষরাও পাল্টা সমাবেশের আয়োজন করছে। এতে ব্যাপক সংঘর্ষ হতে পারে।

সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অনুষ্ঠান আপাতত বন্ধ করা হয়েছে। কেন দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধা দ্বন্দে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত?  তা জানতে ফোন দেওয়া হয় জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদকে। তিনি বলেন, বড় দল হওয়ায় নেতাকর্মীদেও মাঝে ক্রন্দল বেশি। তবে খুব দ্রুতই তা নিরোসন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে একই স্থানে বিএনপির দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ হলে ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে। সেজন্য সংঘর্ষ এড়াতে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রোববারের সকল কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বিকেল ৫ টায় ইউএনও আরো বলেন,  প্রয়োজন হলে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে।