কৃষিকে উন্নত করার জন্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি শক্তিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে: ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাাসক শারমিন আখতার - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কৃষিকে উন্নত করার জন্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি শক্তিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে: ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাাসক শারমিন আখতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় কৃষি যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৭অক্টোবর) সকাল ১১টার সময় কুষ্টিয়া পৌরসভা অডিটোরিয়াম চত্ত্বরে কুষ্টিয়া জেলা শাখা বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির উদ্যোগে এবং সিরিয়াল সিস্টেমস ইনিশিয়েটিভ ফর সাউথ এশিয়া মেকানাইজেশন এ্যান্ড এক্সটেনশন এক্টিভিটি (সিসা-এমইএ)-এর সহযোগিতায় দুই দিন ব্যাপী এই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোছাঃ শারমিন আখতার। কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এস এম নুরুন্নবী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পার্থ প্রতিম শীল, বাংলাদেশ সিসা-এম ইএ সিমিটের চিপ অফ পার্টি মিস্টার ওয়েন ডানক্যান কালভার্ট, বাংলাদেশ সিমিটের ট্রেনিং ম্যানেজার ড. পি ভি এল ভারতী, কুষ্টিয়া রেণউইক যজ্ঞেশ্বর এন্ড কোঃ (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুল হক, কুষ্টিয়া জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মোঃ সোহেল রানা, বাংলাদেশ আই ডি ই সিসা মিয়া প্রজেক্টের প্রকল্প ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ জাকারিয়া হাসান প্রমুখ। এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইডিই সিসা মিয়া প্রজেক্টের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোঃ শাজাহান, মোঃ তৌহিদুর রহমান সুমন, কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মজনু, কোষাধ্যক্ষ আল হেলাল, কৃষি প্রকৌশলী মোঃ মোফাজ্জল হোসেন। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাাসক মোছাঃ শারমিন আখতার বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের কৃষি এবং কৃষকের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নগরায়ন ও শিল্পায়নের কারণে কৃষি জমির পরিমান কমছে। দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে কৃষি শ্রমিকরা দিন দিন অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। যার ফলে কৃষি কাজে শ্রমিক সংকট দেখা দিচ্ছে। কৃষি উন্নয়নের ধারাকে ধরে রাখতে হলে বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যবহারে আমাদের উদ্যোগী হতে হবে। কৃষিপন্যের বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সকল সুবিধা এখন জনগনের নাগালে রয়েছে। দিন দিন আমাদের কৃষিতে কায়িক শ্রম দেয়ার শ্রমিকের অভাব দেখা দিচ্ছে। যার ফলে কৃষিতে উৎপাদন সময়ও বেশি লাগছে। কৃষক আগে অনেকটা বাধ্য হয়ে কৃষিকাজ করতো। এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এজন্য কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে। কৃষিকে কিভাবে লাভ জনক করা যায়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কৃষকের কথা মাথায় রেখে স্লিম, স্মার্ট ও ইফেকটিভ যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলের কৃষি বিপ্লব ঘটাতে মেলার কোন বিকল্প নেই।

কৃষিকে উন্নত করার জন্য উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। এই মেলাটি কেবল আমাদের কৃষকদের ক্ষমতায়ন করবে না বরং আমাদের অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। পরে কৃষি যন্ত্রপাতি মেলার ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন এবং মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোছাঃ শারমিন আখতার। রবিবার হতে সোমবার পর্যন্ত এই দুই দিন ব্যাপী কৃষি যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ মেলায় ১৫ টি স্টলে বিভিন্ন কৃষি  প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি প্রদর্শন করা হয়। কৃষি মেলার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল কৃষি যন্ত্রপাতি প্রচার করা, মেশিনারী সলিউশন প্রোভাইডার (এমএসপি), ডিলার এবং কৃষকদের মধ্যে কার্যকরী সম্পর্ক স্থাপন করা। আর মেলার মূল লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আদান প্রদানের জন্য একটি প্লাটফরম তৈরী করে কুষ্টিয়া

এবং পাশ্ববতী অঞ্চলের কৃষিখাতকে উন্নত করা। এ মেলার ব্যাপারে উদ্যোক্তা কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এস এম নুরুন্নবী বলেন, সিসা- এমইএ প্রকল্পের সহযোগিতায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিন্ন ধরনের কৃষি যন্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি করছে। মেলায় তিনটি লিড ফার্ম – জিএসএম ইঞ্জিনিয়ারিং, জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং ও আর কে মেটাল সহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর, রাজবাড়ী ও ফরিদপুর জেলা থেকে ১৫ টি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ তাদের পণ্য প্রদর্শন করেন। বৈরী আবহাওয়া এবং শ্রমিক সংকটের কারণে যান্ত্রিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষি যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ মেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।