রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে “হাতে দেখলে সাদা ছড়ি, এগিয়ে এসে সহায়তা করি”এই এই প্রতিপাদ্য বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস ২০২৪ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মোঃ মিজানুর রহমান।
উক্ত আলোচনা সভায় গতকাল মঙ্গলবার (১৫অক্টোবর) সকাল দশটা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া এর উপপরিচালক মো: আব্দুল লতিফ সেখ,জেলা সমাজসেবা কার্যালয় কুষ্টিয়া এর মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা) মোঃ তাফসীরুল হক মুন,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখা) মোঃ জাহিদ হাসান,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) মুমতাহিনা পৃথুলা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা এবং আইসিটি শাখা) মোঃ আরিফুল ইসলাম, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগক দৃষ্টি প্রতিবন্ধীগণ,
জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এসময় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন,দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বক্তিদের উন্নয়ন, তাদের আত্ব নির্ভরশীলতার ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার জন্য প্রতিবছর ১৫ ই অক্টোবর বিশ্বব্যাপী সাদা ছড়ি ও নিরাপত্তা দিবস পালন করা হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গতিশীলতাসহ সাধারন জনগনের দৃষ্টিভঙ্গী পবির্তনের জন্য জন্য স্বীকৃত এবং এলাকার বিভিন্ন কর্মকান্ডে তাদের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দানে এই সাদা ছড়ি। অন্ধত্ব ও দৃষ্টি শক্তির প্রতীক হিসাবে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য সাদাছড়ি গ্রহন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,
আমরা যারা স্বাভাবিক ভাবে জন্মগ্রহণ করেছি যাদের প্রত্যেকটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে তারা আসলে বুঝতে পারি না যে একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের মনোজগত কেমন হয়। যাদের চোখে আলো নেই তাদেরকে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষ বলা হয়।সরকার ইতোমধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাসিক ভাতা, চাকুরির কোটা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা, যানবাহনে বিশেষ চলাচলের আসন সংরক্ষণ করা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা খরচায় লেখাপড়ার সুযোগ দান, ইশারা ভাষার প্রচলন ও ব্রেইল বই এর সহজলভ্যতা ইত্যাদির সুব্যবস্থা রয়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এবং জীবনে সম-অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
নিরাপদে আত্মবিশ্বাসের সাথে এবং স্বাধীনভাবে চলাচলের জন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এই সাদাছড়ি একটি প্রতিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। স্বাধীন ও মুক্তভাবে চলার ক্ষেত্রে সাদা ছড়ি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে বড় উপকরণ। সাদা ছড়ি তাদের জন্য আইডি কার্ডের মতো। সাদা ছড়ি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি মানুষদের আত্নবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। সাদা ছড়ি হাতে কোনো মানুষকে দেখে সমাজের মানুষজন বুঝতে পারে যে সে ব্যক্তি দৃষ্টি প্রতিবন্ধী তাই, চলার পথে প্রয়োজনে সহায়তা দিতে সমাজের সচেতন ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। আলোচনা সভা শেষে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়।
