বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘ ১৮ বছর একটানা কর্মরত ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফ উদ্দিন হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠে। ডিউটি রোষ্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফ আয়া-ওয়ার্ড বয়সহ চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ডিউটি বন্টন করতেন। তবে ওই দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। রোগীদের সরবরাহকৃত খাবারের মালামাল বিক্রিসহ তার সিন্ডিকেটভুক্তরা সেবার নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় বাড়তি টাকা।
রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকার ভাগ পান ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফ। এদিকে কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতি-অনিয়মের সাথে জড়িত অভিযোগে তদন্ত প্রতিবেদনসহ ওয়ার্ড মাষ্টারকে অন্যত্র বদলী করতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আব্দুল মোমেন গত ২০ নভেম্বর স্মারক পত্র খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে দেন। প্রেরিত চিঠিতে কর্তেব্যে অবহেলা ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত মর্মে ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফকে অন্যত্র বদলী করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলে কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতি-অনিয়মের দায়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফ উদ্দিনকে দাপ্তরিক পত্র ইস্যুতে ঝিনাইদহ জেলাতে বদলি করা হয়।
এক দেড় বছর না যেতেই পুনরায় আবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে লবিং করে উদ্ধতম কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পোস্টিং নিয়ে চলে আসেন। কি আছে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে যার কারনে তিনি আবারও চলে আসলেন। তবে অভিযুক্ত ওই কর্মচারী এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এসব। এসব অভিযোগ ছাড়াও কুষ্টিয়া শহরে ২টি বাড়ি, প্লটসহ অঢেল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তার অনিয়ম-দুর্নীতি বিষয়টি দুদককে খতিয়ে দেখতে স্থানীয়রা দাবী জানান।
এবিষয়ে ওয়ার্ড মাষ্টার শরীফ উদ্দিন জানান, হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুল মোমেন তদন্ত প্রতিবেদনের কপিসহ অভিযুক্ত ওয়ার্ড মাস্টার শরীফ উদ্দিনকে অন্যত্র বদলী করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং বদলি হয়েছিলেন অন্য জেলাতে দেড় বছর পর তিনি আবার ফিরে এসেছেন। যদি অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে শরিফের উদ্দিনের বিরুদ্ধে আবারো সম্পৃক্ততারর প্রমাণ পায় তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
