কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সপ্তাহ জুড়েই ঝরছে বৃষ্টি। বৃষ্টির ছুঁতে অস্থির কুষ্টিয়ার কুমারখালীর সবজি বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ২০০ টাকা কেজির মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর ৭০ টাকা কেজির বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। এছাড়াও অন্যান্য সবজিতেও প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। সমান আয়ে বাড়তি দামে সবজিসহ নিত্যপণ্য কিনতে নাভিঃশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মাধ্যম আয়ের মানুষের। অপরদিকে আমদানি কম থাকায় কেজি প্রতি দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা দাম বেড়েছে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছের। কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগীতেও।
গতকাল শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে কুমারখালী পৌর তহবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। এতে অখুশি ক্রেতা ও বিক্রেতা। ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটারিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত দামে সবজিসহ নিত্যপণ্য বিক্রি করছেন। কেজি প্রতি ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ায় নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে ভোক্তা মনে। তারা দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। আর বিক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহ জুড়েই ঝুরছে বৃষ্টি।
বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ প্লাবিত হয়ে ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আমদানি কম থাকায় সবধরনের সবজিরই দাম বেড়েছে। শীতকালীন সবজি বাজারে না উঠা পর্যন্ত এমন দাম চলমান থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। সরেজমিন কুমারখালী পৌর তহবাজার ঘুরে দেখা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায়, ৭০ টাকার বেগুন ১২০ টাকা, ৭০ টাকার উস্তে ১০০ টাকা, ১০০ টাকার ফুলকপি ১২০ টাকা, ৪০ টাকার ঝিঙে ৬০ টাকা, ২০ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ১০ টাকার পেঁপে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ১০ টাকার দুই আটির শাক বিক্রি ২৫ টাকা, দাম বেড়ে প্রতি পিচ ৩০ টাকার লাউ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে দাম অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, পেয়াজ, রসুন, আদা, কচুর দাম।
এছাড়াও ৪০ থেকে ৬০ টাকা দাম বেড়ে প্রতিকেজি ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে দুই হাজার ২০০ টাকা। ১৫০ টাকার ব্রয়লার ১৭০ টাকা এবং ২২০ টাকার সোনালী মুরগী বিক্রি হচ্ছে ২৪০ – ২৫০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায়। এদিন পৌর তহবাজারে এসেছিলেন কুমারখালী পৌরসভার খয়েরচারা এলাকার ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, পাঁচ জনের সংসারে দিনে তাঁর আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু বাড়তি দামে কেনাকাটা করতে তাঁর আয়ের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে ধারদেনা করা লাগছে। চাকুরীজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির অজুহাতে সব সবজিরই দাম বেশি। সপ্তাহের ব্যবধানে গতকাল (শনিবার) মরিচে ২০০ টাকা ও বেগুনে ৪০ টাকা বেশি লেগেছে। ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, দাম বেড়ে মরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সেজন্য আগে আধাকেজি কিনতাম। আজ কিনেছি মাত্র ১০০ গ্রাম।বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে বাজারে আমদানি কম। সেজন্য সপ্তাহরের ব্যবধানে প্রতিকেজি সবজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। শীতকালীন সবজি বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম এমনই থাকতে পারে। আরেক বিক্রেতা চাঁদ আলী বলেন, দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা কমেছে। এতে অখুশি ক্রেতা ও বিক্রেতা। আড়তদার লোকমান হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে আমদানি কম হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। মুরগী বিক্রেতা মো. বাবলু বলেন, বিভিন্ন স্থানে বন্যা হয়েছে। মু
রগী আসতে পারছেনা। তাই তিন – চার দিনের ব্যবধানে ১৫০ টাকা ব্রয়লার ১৭০ টাকা এবং ২২০ টাকার সোনালী মুরগী ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কুমারখালী সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান বলেন, মরিচ ৪০০ টাকা কেজি, মিষ্টি কুমড়ার মতো সিম্পল জিনিস তাও ৬০ টাকা কেজি। মাছের বাজারে তো যাওয়ায় যাচ্ছেনা। ইলিশ বাইশ’ শ টাকা কেজি। তাঁর ভাষ্য, নিয়মিত বাজার মনিটারিং না থাকায় সবকিছুর দাম বেড়ে নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে ভোক্তা মনে। তিনি সঠিকভাবে বাজার মনিটারিংয়ের দাবি জানান। অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাজার মনিটারিং কমিটির সদস্যরা নিয়মিত বাজার তদারকি করছেন। কোনো অনিয়ম পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানাও করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, দামে কোনো কারসাজি করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
