দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ দৌলতপুরে আ’লীগের দলীয় প্রভাব দেখিয়ে জোরপূর্বক শালিস বসিয়ে প্রতারণান মাধ্যমে অন্যের জমির বায়নার নাম করে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য ও তার এক দোষরের বিরুদ্ধে। টাকা ফেরত চাইলে নানা ভাবে হত্যার হুমকি ধামকি দিচ্ছে প্রতারক ওই ইউপি সদস্য ও তার সহযোগি। জীবনের নিরাপত্তা ও প্রতারণার মাধমে নেয়া টাকা ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন জাহানারা খাতুন নামে অসহায় এক মহিলা। এ বিষয়ে সাংবাদিকসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন ওই মহিলা।
উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম-নাটনাপাড়া গ্রামে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগি পরিবার,এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জালাল উদ্দীন ওরফে জালাল মেম্বর ও তার সহযোগি হাফিজ উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছিল। শাসিল বিচারের নাম করে এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের নিকট থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে পকেটে পুরতো।
আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন স্থাণীয় আহম্মদ আলীর ছেলে ফরুক হোসেনের ক্রয়কৃত জমির দলীল অবৈধ উল্লেখ করে জোরপূর্বক শালিসের রায় দেন জালাল মেম্বর ও তার সহযোগিরা। স্থানীয় এক হতদিরদ্র জাহানারা খাতুনকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ওই জমির মালিকানা সাজানো হয়। কাগজপত্রে তার নাম উল্লেখ আছে এমন কথা বলে ওই জমি জাহানারা খাতুনকে দখল নিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন জালাল মেম্বর। পরিকল্পিতভাবে ফন্দি এটে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে জাহানারা খাতুনকে দিয়ে ভুয়া মামলা করান এবং স্থানীয়ভাবে জমির বৈধ মালিক ফারুক হোসেনের নামে শালিস বসান জালাল মেম্বর।
শালিসে দলিল ভুয়া উল্লেখ করে ফের জমি বায়না করার জন্য ফারুক হোসেনকে চাপ দেন এবং জমি বায়নার ষ্ট্যাম্পে জোর করে তার স্বাক্ষর করিয়ে নেন। পরবর্তিতে দুই জাহানারা খাতুনকে না জানিয়ে তার নাম ভাঙ্গিয়ে জালাল মেম্বর ফারুক হোসেনের নিকট থেকে জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ও কিছুদিন পর জালাল মেম্বরের সহযোগি ফুলচাদের ছেলে হাফিজ উদ্দীন ৯০ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়ে আসে। জাহানারা খাতুন লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, জালাল মেম্বর ও তার সহযোগি হাফিজ উদ্দীন তার নাম ভাঙিয়ে ফারুক হোসেনের কাছে থেকে দুই কিস্তিতে যে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
এসব টাকা তারা দুজন আত্মসাত করেছেন। তিনি বলেন, ফারুকের জমি জোর করে দখল করিয়ে দেয়ার নাম করে আমাকে দিয়ে মামলা ও সালিশ করিয়েছে জালাল মেম্বর ও হাফিজ উদ্দীন। এসব টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে জালাল মেম্বর ও হাফিজ উদ্দীন আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থোয়াজ আলী বলেন, এ বিষয়ে কয়েকদিন আগে স্থানীয় ভাবে শালিস হয়েছে। জমির ভুয়া মালিক সাজিয়ে জাহানারা খাতুনের নাম করে ফারুক হোসেনের নিকট থেকে জালাল মেম্বর ৫০ হাজার ও তার সহযোগি হাফিজ উদ্দীন ৯০ হাজার টাকা নিয়ে এসেছে বলে প্রমান পাওয়া গেছে।
এসব টাকা ওই দুজন আত্মসাত করেছে বলে জাহানারা খাতুন শালিশের কাছে উল্লেখ করেছে। জাহানারা খুাতুন একজন হতদরিদ্র মহিলা। তাকে বিপদে ফেলা জালাল মেম্বর ও তার সহযোগির ঠিক হয়নি। কার নাম করে এই ভাবে প্রতারণা করা উচিত হয়নি। জালাল মেম্বর ও হাফিজ উদ্দীনকে ওই টাকা ফেরত দেয়া জন্য অনুরোধ করেন চেয়ারম্যান।
