কুমারখালীতে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকোর্ড - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকোর্ড

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৪

কুমারখালী প্রতিনিধি  ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে রেকোর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত শনিবার বিকেল ৩ টা থেকে আজ রোববার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকোর্ড করা হয়। যা চলতি বছর ও গেল পাঁচ বছরেরও মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। সন্ধায় এ তথ্য জানিয়েছেন কুমারখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগের পর্যবেক্ষক মো. আল আমিন।

তিনি বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে গত শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি গত শনিবার বিকেলে রূপ নেয় ভারী বৃষ্টিপাতে। পরে ওইদিন মধ্যরাত থেকে আজ রোববার বিকেল পর্যন্ত দমকা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকোর্ড করা হয়েছে। যা চলতি বছর ও গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. আল আমিন বলেন, এর আগে ২০১৮ সালে ৭৯ মিলিমিটার, ২০১৯ সালে ৪৪, ২০২০ সালে ৪৯, ২০২১ সালের জুন মাসে ১০৫,  ২০২২ সালে ৬৪ ও ২০২৩ সালে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকোর্ড করা হয়েছে।

আগামীকাল সোমবারও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবণা রয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবি, খামারিসহ নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। জলাবদ্ধাতায় ডুবছে কুষকের ফসল। ভেসে গেছে পুকুর। ভেঙে পড়েছে বেশকিছু ঘরবাড়ি। তাড় ছিড়ে শনিবার থেকে বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েক লাখ মানুষ। জানা গেছে, প্রতি রোববারে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জয়বাংলা বাজারে বসে সপ্তাহিক পশু ও নিত্যপণ্যের হাট।

বিকেলে সরেজমিন হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের মধ্যে হাঁটু সমান পানি জমে আছে। পড়ে আছে বাঁশের খু্ট।ি নেই পশু ও মানুষ। সড়কের দুই পাশে প্রতিহাটে বসা জমজমাট সবজির হাটটি প্রায় জনশূণ্য। মানুষ ছাতি মাথায় দিয়ে চলাচল করছে। এসময় যদুবয়রা পশুহাট পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. আব্দুল গনি বলেন, ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বয়ছে দমকা হাওয়া। হাটে মাত্র দুইটি গরু এসেছিল। তা বিক্রি হয়নি। অটোচালক সাগর হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৭০০ – ৮০০ টাকা ভাড়া হয়। রাতে বিদ্যুত ছিলোনা। গাড়িতে চার্জ কম। পথেঘাটে তেমন মানুষ নেই। মাত্র ১১০ টাকা আয় হয়েছে তার।

বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ায় বিভিন্ন ফসল ও সবজির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার দাস। কুমারখালী পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আনছার উদ্দিন বলেন, ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে প্রধান লাইনের তাড় ছিড়ে গেছে। সেজন্য বিদ্যুত নেই। সংযোগ পুনরায় চালু করতে কাজ করছেন তারা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, বড় ধরণের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু গাছপালা ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। তবে বিভিন্ন ফসলের মাঠে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। তা নিরোসনের চেষ্টা চলছে।